স্পোর্টস ডেস্ক

০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:১১

ক্যাপ্টেন মাশরাফির জন্মদিন আজ

টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজার ৩৪ তম জন্মদিন আজ। ১৯৮৩ সালের এই দিনে নড়াইলে তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

মাশরাফির বাবার নাম গোলাম মর্তুজা, তিনি ব্যবসায়ী। আর মায়ের নাম হামিদা মর্তুজা, তিনি গৃহিণী। মাশরাফির ডাক নাম কৌশিক। এ নামেই পরিবারে পরিচিত তিনি।

নব্বইয়ের দশকে নড়াইলের ক্রিকেটার-সংগঠক শরীফ মোহাম্মদ হোসেন উঠতি তরুণদের যত্ন নিতেন। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সের মাশরাফিকে তার ক্লাব নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবে খেলার সুযোগ করে দেন। এ সময় থেকেই মাশরাফির গতি দৃষ্টিগ্রাহ্য হতে শুরু করে। ১৯৯১-এর দিকে মাগুরায় বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পের বিকেএসপি কোচ বাপ্পির সান্নিধ্যে এসে বোলিংয়ের অনেক মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। পরের বছর জাতীয় কোচ ওসমান খান নড়াইলে এক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালাচ্ছিলেন। ওই সময় মাশরাফির আমন্ত্রণ আসে খুলনায় খেলার জন্য। খুলনায় তার গতি ও সুইং হইচই ফেলে দেয়। সেই সূত্রে খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ এবং ঢাকায় আসা।

পরবর্তীতে সুযোগ পান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। সেসময় তার বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টসের পরিচর্যায় পাল্টে যান মাশরাফি। অনূর্ধ্ব ১৯ দলে থাকতে মাশরাফি দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে ‘এ’ দলের খেলায় তিনি সুযোগ পান। এ নিয়ে সমালোচনা হয়। কারণ মাশরাফি ঢাকার কোনও সিনিয়র ডিভিশন লীগেও খেলেননি। তবে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব বলিংয়ের মাধ্যমে দিয়েছিলেন মাশরাফি। সেই সিরিজে মাশরাফি এক ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তার নাম হয়ে যায় ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। এরপর ইনজুরি ছাড়া আর কেউ মাশরাফি বিন মর্তুজাকে আটকাতে পারেনি।

এর পর বাকিটুকু হয়ে থাকবে শুধু ইতিহাস।বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেট দলের দলনেতার ভূমিকায় আছেন।

মাশরাফির ছয়-সাত বছর বয়সের সময় তার নানার বন্ধু শৌখিন হস্তরেখাবিদ নেপাল সরকার মাশরাফির হাত দেখে বলেছিলেন, এই ছেলে বড় হয় উচ্ছন্নে যাবে অথবা কালজয়ী কোনও ভূমিকা রাখবে। আর মাশরাফি হয়েছেন বাংলাদেশের গর্বই।

মাশরাফি 'এ' দলে একটি মাত্র ম্যাচ খেলে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়। মাশরাফি অভিষেকেই তার জাত চিনিয়ে দেন ১০৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তার প্রথম শিকার।

২০০১ সালের ২৩ নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয়। অভিষেকে তিনি ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।

খুব অল্পদিনে মাশিরাফি ক্রিকেটবিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন। এবং ২০০৬ সালে ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে তিনি হন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারি। তিনি এ সময় ৪৯ উইকেট নেন।

১৬ বছরের ক্যারিয়ারে মাশরাফিকে ১১ বার চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে। চোটই তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ২০১১ সালের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। এর পরও দেশকে ভালোবেসে খেলে যাচ্ছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম নির্ভীক এ ক্রিকেটার।

এত কিছুর পরও এখন পর্যন্ত ৩৬ টেস্ট, ১৭৯ ওয়ানডে ও ৪২টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি। এখন পর্যন্ত ৩৬ টেস্টে মাশরাফি পেয়েছেন ৭৮ উইকেট। অন্যদিকে ওয়ানডেতে ২৩২ ও টি২০ ক্রিকেটে পেয়েছেন ৪২ উইকেট। ওয়ানডেতে এক ম্যাচে মাত্র ২৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৬ উইকেট, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। অন্যদিকে টি২০ ক্রিকেটে পাঁচ উইকেটের দেখা না পেলেও ১৯ রান দিয়ে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত