স্পোর্টস ডেস্ক

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:৩১

জয়ের দেখা পেলো পাকিস্তান, জোড়া সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ডের হার

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় ডুবেছিল পাকিস্তান। সেই দলটিই এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান উৎসব করে পেয়েছে প্রথম জয়। সোমবার ট্রেন্ট ব্রিজের ম্যাচটি ১৪ রানে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান।

বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লজ্জায় ডুবেছিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়া দলটি কী চমৎকারভাবেই না ঘুরে দাঁড়ালো। তাও আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যাদের সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল পাকিস্তানকে।

ট্রেন্ট ব্রিজের ম্যাচে তাই পরিষ্কার ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ড। এমনকি সরফরাজ আহমেদরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রান করার পরও ইংলিশদের পক্ষে জয়ের পাল্লা ছিল ভারি। কারণটা বিশ্বকাপের আগের ওয়ানডে সিরিজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই সিরিজে প্রায় সব ম্যাচে ৩৫০ প্লাস রান করেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’।

তবে ‘আসল’ লড়াইয়ে আর পারলো না ইংল্যান্ড। জো রুট ও জস বাটলারের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে স্বাগতিকদের থামতে হয় ৩৩৪ রানে। তাই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়া হয়নি ইংল্যান্ডের।

বৃথা গেছে জো রুটের সেঞ্চুরি
ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো ছিল না। আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করা জেসন রয়ের আউটে স্বাগতিকরা হারায় প্রথম উইকেট। প্রথম ওভারে শাদাব খানকে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকানো রয় এই স্পিনারের শিকার হয়েই ফেরেন ৮ রান করে। শুরুর ধাক্কা কাটিয়েছিলেন জনি বেয়ারস্টো অধিনায়ক এউইন মরগানকে সঙ্গে নিয়ে। যদিও ৩১ বলে ৩২ রান করে বোয়ারস্টোকেও ফিরতে হয় সাজঘরে।

মরগানকে ঠিক নিজের স্বভাবে পাওয়া যায়নি। শুরু থেকে দেখেশুনে খেললেও ইংলিশ ওপেনার টিকতে পারেননি। মোহাম্মদ হাফিজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে মাত্র ৯ রান করে। এরপর ইংল্যান্ডের চাপ আরও বাড়ে শোয়েব মালিকের শিকার হয়ে ১৩ রান করা বেন স্টোকস ফিরলে।

কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছে ইংল্যান্ড, তখনই শুরু জো রুট ও জস বাটলারের প্রতিরোধ। চমৎকার ব্যাটিংয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৩০ রান যোগ করে জয়ের স্বপ্ন দেখান তারা। এবারের বিশ্বকাপ প্রথম সেঞ্চুরিও দেখে ফেলে রুটের সৌজন্যে।

সময় উপযোগী ব্যাটিংয়ে রুট পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি। শাদাব খানের বলে আউট হওয়ার আগে খেলে যান ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। ইংলিশদের পথে ফেরাতে ১০৪ বলের ইনিংসে ১০ চারের সঙ্গে মারেন এক ছক্কা।

কাজে লাগেনি জস বাটলারের শতকও
তার আউটের পর ইংল্যান্ডকে পথে রাখেন বাটলার। রুটের পথে হেঁটে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এই উইকেটরক্ষকও তুলে নেন সেঞ্চুরি। গত কয়েক বছর ধরে ছন্দে থাকা বাটলার পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি। যদিও শতক পূরণ করার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ৭৬ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় খেলে যান তিনি ১০৩ রানের কার্যকরী ইনিংস।

তার আউটের পর মঈন আলী (১৯), ক্রিস ওকস (২১) ও মার্ক উড (১০*) চেষ্টা করলেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি ইংল্যান্ড।

দুর্দান্ত এই জয়ে ওয়াহাব রিয়াজ ৮২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট শিকার মোহাম্মদ আমির ও শাদাব খানের। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক।

এর আগে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে পাকিস্তান। সোমবার ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাকিস্তান ৮ উইকেটে করে ৩৪৮ রান।

রবিবার ২০১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগারদের করা ৩৩০ রান টপকে গেছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ হাফিজের ৮৪, বাবর আজমের ৬৩ ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ৫৫ রানে ভর দিয়ে রানের পাহাড় গড়েছে ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান যোগ করেন ৮২ রান। ফখরের আউটে পাকিস্তান হারায় প্রথম উইকেট। এই ওপেনার ৪০ বলে করে যান ৩৬, আর ইমামের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।

তাদের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় জুটি গড়েন বাবর ও হাফিজ। তৃতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়ার পথে দুজনই পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। ফর্মের তুঙ্গে থাকা বাবর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে খেলেন ৬৩ রানের ইনিংস। মঈন আলীর বলে ক্রিস ওকসের হাতে ধরা পড়ে শেষ হওয়া ৬৬ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।

জ্বলে উঠেছিল মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাট
হাফিজ ছাড়িয়ে যান তাকেও। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান খেলেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন তিনি। যদিও পারেননি, ৮৪ রানে থামতে হয় তাকে মার্ক উডের বলে। ৬২ বলের ঝড়ো ইনিংসে হাফিজ ৮ বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছেন ২ ছক্কা।

হাফিজের দেখানো পথে হেঁটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সরফরাজও। পাকিস্তানি অধিনায়ক ১১তম ফিফটি পূরণ করে ৪৪ বলে ৫ বাউন্ডারি করে খেলে যান কার্যকরী ৫৫ রানের ইনিংস। আসিফ আলীর ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১৪। তবে সুবিধা করতে পারেনি এবারের আসরে প্রথমবার মাঠে নামা শোয়েব মালিক (৮)।

যদিও শেষ দিকে হাসান আলী (৫ বলে ১০*) ও শাদাব খান (৪ বলে ১০*) ঝড়ো ব্যাট করলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে স্কোরে ৩৪৮ রান জমা করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার মঈন। এই স্পিনার ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ক্রিস ওকসের শিকারও ৩ উইকেট, তবে ৮ ওভারে খরচ করেছেন তিনি ৭১ রান। ২ উইকেট পেয়েছেন মার্ক উড।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত