বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৪৪

টাকা আর দুধ ছাড়া পাসপোর্ট তদন্ত করেন না এসআই জাকিরুল

পাসপোর্ট তদন্তে হাজার টাকা লাগে এ বিষয়টির সঙ্গে সিলেটের বিশ্বনাথের সর্বস্থরের জনসাধারণের জানা। কিন্তু সম্প্রতি টাকার সঙ্গে ২লিটার গাভীর দুধ দেওয়া না হলে তদন্ত রিপোর্ট আটকে দেন এসআই জাকিরুল ইসলাম নামের এক ডিএসবি’র কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, পাসপোর্ট আবেদনকারীদের নানা হুমকি ধামকি দিয়ে বড় অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা। এমন অভিযোগ এখন উপজেলার ভুক্তভোগীদের মুখে মুখে।

সিলেট জেলা আ’লীগের সদস্য এএইচএম ফিরোজ আলী বলেন, এসআই জাকিরুল ইসলাম উপজেলার জনসাধারণের কাছে নিজেকে থানার দারোগা দাবি করেন। গ্রাহকদের নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে প্রকাশ্যে পাসপোর্ট তদন্তের নামে ঘুষ নেন। মাস খানেক আগে পরিচয় দেওয়ার পরও তার ছেলে ও মেয়ের আবেদতি দু’টি পাসপোর্টের জন্য ওই কর্মকর্তা তার নিকট থেকে প্রকাশ্যে ১ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকার জন্যে পাসপোর্ট তদন্তকালে আবেদনকারীদের সঙ্গে অশুভ আচরণও করেন এই কর্মকর্তা। কোথাও না গিয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিশ^নাথ বাজারের ভোজনঘর, মুসলিম সুইটমিট, বনফুল, মাদ্রাসা মার্কেটের চটপটি দোকানসহ যত্রতত্র বসে লোকজনের কাছ থেকে চুক্তি করে টাকা নেন এসআই জাকির। হুমকি ধামকি দিয়ে অবৈধভাবে গ্রাহকদের হয়রানি টাকা ও দুধ নেওয়ার ভিডিও রয়েছে অনেক গ্রাকদের কাছে।

জানগেছে, সম্প্রতি আবেদিত সৈয়দপুর সদুরগাঁওয়ের আব্দুর রহমানের ছেলে প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা তাহির মিয়ার পাসপোর্ট তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই জাকির। আর এ জন্য গত বৃহস্পতিবার ফোনে কথা বলে উপজেলা সদরে তাহিরকে নিলেও তিনি দেখা করেননি। পরে রাতে আবারও কথা বলে শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় তাহিরকে দেখা করতে বলেন এই কর্মকর্তা। কথা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১১টারদিকে থানার পাশ্ববর্তি ভোজনঘর রেস্টুরেন্টের একটি কেবিনে গিয়ে অপেক্ষা করেন তাহির। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান শাহিদ। কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে এসআই জাকিরুল তাহির মিয়ার সঙ্গে পলাতক খুনি আসামির ন্যায় অত্যধিক খারাপ আচরণ করেন। আর বলতে থাকেন বিশ^নাথের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। অপরাধীদের শহর হয়েগেছে বিশ^নাথ। বেটা, ফালতু লোকদের সঙ্গে বসে সময় কাটাও আর দারোগার সময় নষ্ট করাও। কত রিপোর্ট বাকি আছে। চাউলধনী হাওরে খুন হয়েছে, রামপাশার হাওর থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কত কি। বেটা উটে আস। এই বলে তাহিরকে নিয়ে এই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে পাশের মুসলিম সুইটমিটে নিয়ে যান এই কর্মকর্তা। সেখানে গিয়ে নগদ এক হাজার টাকা আর ২লিটার গাভীর দুধ নেন তিনি।

তাহির মিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সকল কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও দুই দিন যাবত নানা হুমকি ধামকি দিয়ে দেখা করার কথা বলেন এসআই জাকিরুল। তারপর তার বন্ধু আওয়ামী লীগ নেতা সাহিদসহ আরও এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলেন আর ওই কর্মকর্তার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি গিয়ে বন্ধুদের সামনে আরও খারাপ আচরণ করে সেখান থেকে পাশের মুসলিম সুইটমিটে নিয়ে গিয়ে নগদ এক হাজার টাকা ও দুই লিটার দুধ নেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান শাহিদ জানান, এসআই জাকিরুল ইসলাম তাহির মিয়ার সাথে যে আচরণ করেছেন সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাছাড়াও হুমকির পাশাপাশি অপরাধীদের শহর বিশ্বনাথ এবং আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে, এসআই জাকিরুল ইসলামের সঙ্গে বারবার মুঠোফোনে বারবার কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বুঝতে পারছেন না বলে বারবারই ফোনকল কেটে দেন।

বিশ^নাথ থানার ওসি শামীম মুসা এ প্রসঙ্গে বলেন, এসআই জাকিরুলের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এরই মধ্যে রিপোর্ট দিয়েছেন বলে জানিয়ছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত