রিপন দে, মৌলভীবাজার

০৩ এপ্রিল, ২০২১ ২১:১১

হরিণটি বনে নাকি ভোজে?

গত শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা একটি হরিণের অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, উদ্ধারের পর হরিনটিকে তারা অবমুক্ত করে দিয়েছেন। তবে বন কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধারকৃত হরিন নিয়ে বিভ্রান্তকর তথ্য দিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বন বিভাগকে না জানিয়ে অবমুক্ত করাও বেআইনী বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার শ্রীমঙ্গলের টি মিউজিয়াম রিসোর্টের পাশ থেকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে একটি হরিণকে উদ্ধার করেন স্থানীয় কয়েকজন। ওইদিন সন্ধ্যায় হরিণটিকে পশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাযন তারা।

পশু হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. কর্ণ চন্দ্র মল্লিক জানান, হরিণের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। যারা হরিণটি নিয়ে এসেছিল তারা সংখ্যায় ৮/৯ জন ছিল। তারা আমাকে জানিয়েছে টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়ামের পাশে হরিণটি আহত হয়ে পরেছিল। আমি চিকিৎসা শেষ করে বন বিভাগকে ফোন দিলে উদ্ধারকারী ছেলেরা দ্রুত হরিণটি নিয়ে সিএনজি যোগে চলে যায়। এরপর আর কি ঘটেছে জানি না।

বনবিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, হরিণ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। তবে আসতে আসতে একটু দেরি হয়। টি মিউজিয়াম রিসোর্টে পৌঁছে উদ্ধারকারীদের ফোন দিলে তারা জানায় যে হরিণটি অবমুক্ত করার জন্য নিয়ে আসছে। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে যখন আবার যোগাযোগ করি তখন একটা ছেলে একা আসে। তখন সম্ভবত সাড়ে আটটা বাজে। সে জানায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদের উপস্থিতিতে হরিণটি অবমুক্ত করা হয়েছে। পরে আমার অফিসে ছাত্রলীগের সভাপতি এসে লিখিত দেন যে, তার উপস্থিতিতে হরিণটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

তবে যারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল এবং হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়েছিল তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে- একজনের নাম সাগর অন্যজন আলাল।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদুর রহমান মসুদ জানান, রাত তখন ৯টা। আমি এই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ দেখি দুইটা ছেলে বনের মধ্যে কি একটা ছেড়েছে । আমি কাছে এসে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাকে বলে- হরিণ অবমুক্ত করেছি। তখন তাদেরকে আমি প্রশ্ন করি, বন বিভাগকে না দিয়ে নিজেরা কেন অবমুক্ত করল। তারা বলে ভয়ে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। এরপর রাতে বন বিভাগ যোগাযোগ করলে তাদেরকে জানাই যে তারা অবমুক্ত করেছে। তখন বন বিভাগ লিখিত চাইলে লিখিত দিই। এর ভেতরে কি হয়েছে না হয়েছে আমি আর কিচ্ছু জানি না।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হরিণটি হাসপাতালে নিয়ে যায় ৮/৯ জন। ছিল কিন্তু ছাত্রলীগের স্থানীয় সভাপতি দাবি করেছেন, হরিণ অবমুক্ত করার সময় দুজনকে দেখেছেন। এছাড়া হরিণটি অবমুক্ত করার সময়ের দাবি নিয়েও গরমিল পাওয়া যায়। হরিণ অবমুক্তের ছবি বা কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেননি তিনি।

হাসপাতাল থেকে তাড়াহুড়ো করে বন বিভাগের লোকজন আসার আগেই হরিণ নিয়ে চলে যাওয়া এবং অবমুক্ত করা নিয়ে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- হরিণটি অবমুক্ত করা হয়েছে নাকি কারও ভোজে চলে গেছে?

আপনার মন্তব্য

আলোচিত