হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৯

‘এনজিওর আড়ালে নারীদের জিম্মি করে ধর্ষণ, তুলে দিতেন বন্ধুদের হাতেও’

হবিগঞ্জের বাহুবলে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালনার আড়ালে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগ ওঠেছে। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হবিেঞ্জের নুরুল ইসলাম ওরয়ে নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ,ধর্ষণের পর নারীদের চেতননাশক ওষুধ খাইয়ে বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতেও তুলে দিতেন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৯ এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

র‌্যাব জানায়, অসহায় নারীদের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং পর্নোগ্রাফি চক্রের মূল হোতা কথিত মানবাধিকার নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক ভুক্তভোগীর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯। নুরুল হক বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লাকুড়ীপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

সম্প্রতি অভিযুক্ত নুরুল হকসহ তার সহযোগী ওসমানীনগরের আবুল বশর (মামুন বখত) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে বাহুবল থানায় মামলা করেন এক তরুণী। ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চুনারুঘাট উপজেলার জনৈক এক তরুণী বছরখানেক আগে নুরুল হকের সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই নুরুল হক তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাশয়ের বাজারের তার কার্যালয়ের ভেতরেই তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় নুরুল হক কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টানা পাঁচ মাস তাকে জিম্মি রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগে ওই তরুণী জানান, তাকে চেতননাশক ওষুধ খাইয়ে নুরুল হকের বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতেও তুলে দেওয়া হতো। সম্প্রতি তিনি চাকরি ছেড়ে দিলে সেই আপত্তিকর ভিডিওগুলো বিদেশে থাকা বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে তিনি বাহুবল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, শুধু ওই তরুণী নয়, ওই প্রতিষ্ঠানের আরও একাধিক নারীকর্মী একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। চুনারুঘাট ও বাহুবলের আরও দুই তরুণী একইভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাশিদা নামে এক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান অভিযুক্ত নুরুল হককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিও দরিদ্র কল্যাণ সংস্থার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় নারীদের জিম্মি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।

বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক থাকা অবস্থায় র‌্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত