নিজস্ব প্রতিবেক

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২৫

রায়হান হত্যা: কোথায় আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এসআই আকবর

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। হত্যাকান্ডের প্রায় ৬ বছর ঘোষিত এই রায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ, পুলিশের বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

তবে এই মামলার প্রধান আসামি আকবর হোসেন ভূঞা জামিনে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তিনি দেশে নেই বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কোথায় আছেন আকবর

গত বছরের আগস্টে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আকবর। এরপর ১১ আগস্ট সিলেট কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।

এরপর ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করে। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত করেন। পাশাপাশি আকবর হোসেনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতে আর আত্মসমর্পন করেননি আকবর।

রায়হানের মা সালমা বেগম সেইসময়েই অভিযোগ করেন, আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই ভারতে পালিয়ে গেছেন।

জানা যায়, ১২ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে এসআই আকবর আখাউড়া সীমান্ত হয়ে ভারত পালিয়ে যান। এ জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আকবর হোসেন ভূঞা বর্তমানে ইউরোপের দেশ বেলারুশে অবস্থান করছেন। কয়েক মাস ভারতে অবস্থানের পর তিনি বেলারুশ চলে যান। বেলারুশে থাকা একাধিক প্রবাসীও সেখানে আকবরকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। যদিও সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ৬ আসামির মধ্যে ৫ জনই পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে পুলিশের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

বাকী তিন আসামির মধ্যে বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে কেবল আশেক এলাহী কারাগারে আছেন। বাকীরা পলাতক।

রায় প্রকাশের পর আসামিরা পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, রায়ে আমি সন্তোষ্ট। কিন্তু পলাতক আসামিদের ধরে এনে শাস্তি নিশ্চিত না হলে আমি শান্তি পাবো না। আকবরের ফাঁসির রায় হয়েছে ঠিকই কিন্তু সে তো পলাতক।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে আকবর জামিন পায়নি। কিন্তু ইউনূস সরকারের সময়ে সে জামিন পেয়ে পালিয়ে যায়।

রায়হানের মা আরও বলেন, অতীতে যেভাবে আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেভাবে আবার যেনো তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

আগে যেভাবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আকবর
২০২০ সালের ৯ নভেশ্বর আকবর হোসেন ভূঁঞাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেসময় পুলিশ জানিয়েছিল, কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ডোনা এলাকা থেকে তাঁকে জেলা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে।

তবে সীমান্ত এলাকার অন্য একটি সূত্র জানায়, আকবর কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়া পল্লিতে বসবাস করছিলেন। খাসিয়ারা কৌশল করে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠালে পুলিশ খবর পেয়ে গ্রেপ্তার করে।

ডোনা সীমান্তের দুজন প্রত্যক্ষদর্শী সেসময় বলেছিলেন, গ্রেপ্তারের সময় আকবর আগ বাড়িয়ে পুলিশকে নিজের পরিচয় দেন। এ সময় তাঁর বেশভূষা অনেকটা খাসিয়া পল্লিতে বসবাসকারীদের মতো ছিল। গলায় পুঁতির মালাও দেখা যায়।

সিলেট নগরীর আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হানকে ১০ অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরের দিন ১১ অক্টোবর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে নির্যাতন করার সত্যতা পায়। ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে গা-ঢাকা দেন আকবর।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর ন্যস্ত হলে ১৯ অক্টোবর ফাঁড়ির সেন্ট্রি পোস্টে কর্তব্যরত তিনজন কনস্টেবল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের বর্ণনা ও নির্যাতনকরীদের নাম বলেন। রায়হানকে নির্যাতনের মূল হোতা ছিলেন এসআই আকবর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত