২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪১
সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলে দুই সাংবাদিক। হামলায় আহত হয়েছেন সিলেটভিউ২৪ ডটকমের প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল।
আহত সাংবাদিকদের দাবি, রোগীর স্বজনদের মারধরের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুই রোগীর স্বজনদেরও মারধর করা হয়।
তবে হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎকজোনিয়েছেন, রোগীর স্বজনদের সাথে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ঝামেলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘মারার পর সব সাংবাদিক হয়ে যায়’।
বুধবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, হামলার পর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও কর্মবিরতির অজুহাতে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হয়নি। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসা নিয়েছেন।
রেজা রুবেলের ভাষ্য, হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় আরও কয়েকজন সহকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ছবি তুলতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাঁদের মাথায় আঘাত করা হয়। হামলার সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা তাঁদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। পরে অন্য সহকর্মীরা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
‘মারার পর সব সাংবাদিক হয়ে যায়’
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক রাকিন হান্না বলেন, বুধবার হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি ছিল। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৬০ জন রোগী ছিলেন। সেখানে ভিড় থাকায় সিরিয়াল নিয়ে ঝামেলা হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসক আহত হন। সেখানে রোগীর স্বজনদের মধ্যে একজন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছিলেন। এ সময় এমবিবিএস ও বিডিএসের শিক্ষার্থীরা হাত তোলেন। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে ঝামেলা হয়। যাঁরা সেখানে ছিলেন, তাঁদের পুলিশ নিয়ে গেছে।
দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিন হান্না বলেন, ‘দুজনের কথা জানি না, একজনকে জানি। তবে তিনি আদৌ সাংবাদিক কি না। এখন মারার পর সব সাংবাদিক হয়ে যায়।’
জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি জেলা প্রেসক্লাবের
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় দুই সাংবাদিক আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওসমানী হাসপাতাল এ অঞ্চলের চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল। এখানে কর্মরত চিকিৎসকরা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। কিন্তু ইন্টার্ণ চিকিৎসক নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী প্রায়ই রোগি ও তাদের স্বজনদের হেনস্তা ও মারধর করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করেন। যার পূণরাবৃত্তি ঘটেছে বুধবার রাতে। রোগির স্বজনদের মারধর করার তথ্য সংগ্রহ, ছবি-ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ইন্টার্ণ চিকিৎসক দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। পরিচয় জেনেও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে।
সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু সংবাদ মাধ্যমের ওপর আঘাত নয় বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ওসমানী হাসপাতালসহ সকল ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রেসক্লাবের জরুরী সভা:
এদিকে, হামলার ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ক্লাব কার্যালয়ে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। বক্তারা বলেন, এই ধরণের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় সিলেটের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া সভা থেকে বেশ কিছু কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, দৈনিক বৃহত্তর সিলেটের মানচিত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফয়সল আহমদ বাবলু, ক্লাবের সহ সভাপতি সজল ঘোষ, দৈনিক আধুনিক কাগজের প্রকাশক ও ক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি সাঈদ চৌধুরী টিপু, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজাউল হক ডালিম, ক্লাব সদস্য মামুন হাসান, ইমরান আহমদ, ক্লাব সদস্য ও আজকের সিলেট.কম এর সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, কালবেলার ব্যুরো প্রধান মিঠু দাস জয়, ক্লাব সদস্য ওলিউর রহমান, ক্লাব সদস্য ও দৈনিক শ্যামল সিলেটের সিনিয়র রিপোর্টার আতিকুর রহমান নগরী, শ্যামল সিলেটের স্পোটর্স ইনচার্জ কাইয়ুম আল রণি, আহমেদ শাহীন, নাজাত আহমদ পুরকায়স্ত, জয়ন্ত কুমার দাস প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য