সিলেটটুডে ডেস্ক

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫১

সিলেটে ‘ইন্ডিয়া মিনস বিজনেস’ অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেটে ‘Business Event: India Means Business’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেট।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক এজাজ আহমেদ চৌধুরী ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারসহ উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা গেলে উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সিলেট অঞ্চলের স্থলবন্দর ও এলসি স্টেশনগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সুতারকান্দি দিয়ে ওয়েস্ট কটন আমদানির অনুমতি প্রদান এবং প্লাস্টিক ও ফল আমদানির ব্যবসা চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সুতারকান্দি এলসি স্টেশনে কোয়ারেন্টাইন কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দেন।

এজাজ আহমেদ চৌধুরী করিমগঞ্জ এলসি স্টেশনের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কাস্টমস অফিসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কয়লা ও পাথরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ এলসি স্টেশন চালু ও আধুনিকায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এতে সীমান্তবাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এর জেনারেল সেক্রেটারি অমরেশ রায়, মেঘালয় ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর্টার্স চেম্বার অব কমার্সের সচিব ডলি খোংলাহ, এসএমসিসিঅ্যান্ডআই-এর ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফেরদৌস আলম ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন চাতলাপুর এলসি স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের স্বত্বাধিকারী চন্দন সাহা, সিলেট পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আতিক হুসেইন এবং মানসুর গ্রুপ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ মনসুর, মৌলভীবাজার চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হাসান আহমেদ জাভেদ, চাতলাপুর এলসি পোস্টার জেনারেল সেক্রেটারি সৈয়দ ইশতিয়াক উদ্দিন বাবেল এবং মোহাম্মদ আবুল কালাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাউথ ওয়েস্ট খাসি হিলস মাইন ওনার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস সিজার ডিয়েঙনান ।

বক্তারা ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সীমান্তবাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

ব্যবসায়িক আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এ পর্বে এমকার শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন এবং সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লাবণী পাল তুলি।

অনুষ্ঠানটি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তবাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল করা এবং ভারত-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত