০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:৪৯
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুর তিনমাস পর এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
গত ২৯ এপ্রিল ওই নেতার মৃত্যু হলেও ৩১ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ মামলায় তিনি ৫৬ নম্বর আসামি। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবুল খয়ের ইসরাইলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ অভিযোগপত্র দাখিলের তিনমাস আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তার সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে মোট ৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আবুল খয়ের ইসরাইলের মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।
আপনার মন্তব্য