০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:১৪
ইতালিতে বার্ষিক কর্মী নিয়োগের কোটার বাইরেও বৈধভাবে কাজের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা। ইতালির অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার (আর্টিকেল ২৩) আওতায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা দক্ষ কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান।
ইতালির দূতাবাস এবং তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে 'ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিকি অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেইনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন অন ইতালি' শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো সেমিনারে বলেন, এসব প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ খরচ নিয়োগকর্তারা বহন করবেন এবং কর্মীদের কোনো মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দিতে হবে। কোনো কর্মী মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দিয়ে থাকলে, তাকে আর ভিসা দেওয়া হবে না।
সেমিনারে বলা হয়, প্রশিক্ষণে ইতালীয় ভাষা, দেশটির নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট পেশার দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাংলাদেশেই বিনা খরচে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সেমিনারে আরও বলা হয়, বর্তমানে ইতালিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। ২০২৫ সালে তারা ১.৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতালির ভাষা শিক্ষা, সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত সঠিক আচরণ ও মূল্যবোধের বিকাশে কার্যকর মডেলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোকেই জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে এবং বিভিন্ন স্তরে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।
তিনি বলেন, দক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও কম খরচে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা নির্বাচিত নতুন বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপকল্পের অন্তর্ভুক্ত। সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার সাথে এই আয়োজনটি শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসন প্রত্যাশী কর্মীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কাজের পথ উন্মোচন করা জরুরি, যেখানে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং সম্ভব হলে তা শূন্য খরচে নিশ্চিত করা হবে। যৌথ এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ কর্মীদের ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বোয়েসেলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহযোগিতা করবে। কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার আগে প্রবাসী কার্ড দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সেমিনারে দালালের মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান মাহ্দী আমিন।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির বর্তমান রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে, ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির উপ-মিশন প্রধান ডা. ফেদেরিকো জামপারেল্লি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের উপ-প্রধান বাইবা জারিনা, ইতালিয়ান দূতাবাসের অভিবাসন উপদেষ্টা জুসেপ্পে দি জিওভান্নি প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য