গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা

২৮ মে, ২০১৬ ২৩:১৪

দেশ খারাপ হয় না, মানুষের জন্যে দেশ খারাপ হয় : আল্লামা শফি

দেশের সবাই শান্তি  চায়। দেশ কখনও খারাপ হয় না। মানুষের জন্য দেশ খারাপ হয় বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি।  

শনিবার (২৮ মে) দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নব-নির্মিত মার্ভেলাস টাওয়ারের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা আহমদ শফিক বলেছেন, ইসলামে অসত্য, অন্যায়, সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। ইসলাম ন্যায় ও শান্তির ধর্ম। ইসলামকে অনুসরণ করতে পারলে এ দেশে কোনো হানাহানি ও সন্ত্রাস থাকবে না। আজ সর্বত্র ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। ইসলামের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে নানাভাবে। আমাদের অনৈক্য আর নিজ ধর্মের মধ্যে কতিপয় গোমরাহ ও ধর্মবিরোধীর কারণেই বিধর্মীরা এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। মুসলমানদের অনৈক্যের কারণে ইসলাম বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে।

মাওলানা হিলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও হাফিজ মাওলানা আব্দুল আহাদের পরিচালনায় আল্লামা শাহ্ আহমদ শফিক আরো বলেন, মুসলমানদেরকে সর্বপ্রথম নিজের ঈমান মজবুত করতে হবে। ঈমান মজবুত করার জন্যে সকাল-বিকাল বেশি বেশি করে কালিমার জিকির করতে হবে। আল্লাহর নাম জপতে হবে। অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব, রহমতের আশা ও আজাবের ভয় তৈরি হলে ইসলামের বিরুদ্ধের কোনো শক্তিই মুসলমানদেরকে কাবু ও বিপথগামী করতে পারবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, তাক্বওয়া তথা খোদা ভীতি ছাড়া পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যায় না। অপরদিকে আল্লাহর ভয় মানুষের অন্তরে না থাকার ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অন্তরে খোদাভীতি থাকলে কারো পক্ষে শরীয়তের হুকুম লঙ্ঘন করা, হারাম পথে চলা কিছুতেই সম্ভব নয়। খোদাভীতির অপর নাম তাক্বওয়া। আর এই তাক্বওয়া থেকে দূরে থাকার কারণেই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মুসলমানগণ নানাভাবে পর্যুদস্ত ও নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলমানদেরকে এই দুর্দশা থেকে রেহাই পেতে পূর্ণাঙ্গ তাক্বওয়া অর্জনের পাশাপাশি ঈমানী শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলিম জাতিসত্তা ও দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

দোয়া মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মার্ভেলাস টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজ মাওলানা নুরুল হুদা।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আসিক উদ্দিন, মাওলানা হাফিজ ফারুক আহমদ, হাফিজ মাওলানা আব্দুল গফফার, মাওলানা আব্দুল মতিন, হাফিজ মাওলানা হাবিবুল্লাহ জালালী, গোলাপগঞ্জ দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ক্বারি মাওলানা সাইদুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত