৩১ মে, ২০১৬ ০১:২৬
সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওসমানীনগরে জাপার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে জাপার তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা। তৃণমূল পর্যায়ের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থী নির্বাচন, বিভিন্ন দল থেকে লোক ভাগিয়ে দলীয় প্রার্থীতা প্রদান ও স্বজন প্রীতির কারণেই দলের এই ভরাডুবি হয়ে বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে উপজেলা জাতীয় পাটির অনেক নেতা এ লজ্জাজনক ভরাডুবির জন্য দলীয় এমপি ও স্থানীয় এক যুব সংহতির নেতাকে দায়ী করছেন। তারা বলেন, ওসমানীনগরে জাতীয় পাটির ১৯ভাগ ভোট থাকার পরও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুরো উপজেলায় জাতীয় পাটি মাত্র ২ হাজার ৬৬৫টি ভোট পেয়েছে। যা পুরো উপজেলায় কাস্টিং ভোটের মাত্র ২.৮ ভাগ। জামানত হারিয়েছেন জাপার সব প্রার্থীই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পাটির প্রবীণ এক কর্মী জানান, দলের ভরাডুবির জন্য মূলতঃ দায়ী এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। যিনি ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিশ্বনাথ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে ভোট পেয়েছিলেন ৩ হাজারের মতো। কিন্তু ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এহিয়া আওয়ামীলীগের ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মুহিবুর রহমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজেকেই সর্বেসর্বা মনে করছেন। তিনি রাজনীতির ভাষা বুঝেন না। তিনি রাজনীতি সচেতন হলে অবশ্যই দলের প্রবীনদের মূল্যায়ন করে দলের গতিবৃদ্ধিতে তৎপর হতেন। তা না করায় ওসমানীনগরে জাতীয় পাটির জন সমর্থন শূণ্যের কোঠায়।
এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওসমানীনগরের ৬টি ইউনিয়নে প্রার্থী দেয় জাতীয় পাটি। প্রার্থী ও তাদের প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে রা হচ্ছেন উমরপুর ইউনিয়নে আজিজুর রহমান-৬৬৫, সাদিপুর ইউনিয়নে আব্দুল মুহিম-৩৮৭, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে আব্দুল মালিক-১৩৭, উছমানপুর ইউনিয়নে কাজী তুহেল-২০৬, দয়ামীর ইউনিয়নে ছৈদুল ইসলাম সৈয়দ-৯৪০, তাজপুর ইউনিয়নে আশরাফ মিয়া সিরাজ-৩৩০ ভোট। ওসমানীনগরের সবকটি ইউনিয়নে লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থীদের সবমোট ভোট মিলিয়ে দেখা যায় তাদের প্রাপ্ত ভোট ২৬৬০টি।
ওসমানীনগর থানা জাতীয়পাটি নেতা মকবুল আলী বলেন, উপজেলা কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, ওয়ার্ড কমিটি কারো সাথেই সমন্বয় না করে এমপি এহিয়া সাহেব নিজস্ব মতামতে প্রার্থী দিয়েছেন। আমরা মনে করছি তার এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভরাডুবি হয়েছে। সবার মতামতে প্রার্থী দেওয়া হলে আমরা ওসমানীনগরে ৩/৪টি ইউনিয়নে জিততে পারতাম।
ওসমানীনগর উপজেলা জাতীয় পাটির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য ছিদ্দেক আলী বলেন, এমপি এহিয়া তার ইচ্ছে মতো প্রার্থী দিয়েছে। দলের এই ভরাডুবির জন্য স্থানীয় এমপি দায়ী। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী দিতে আমরা বারবার এমপিকে তাগিদ দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত না করে থানা যুব সংহতির আহবায়ক আশিক মিয়ার প্ররোচনায় ইচ্ছে মতো প্রার্থী দিয়ে দলকে লজ্জাজনক ভাবে হারিয়েছেন। এমপি এহিয়া চৌধুরী এলাকায় এলে আমরা তার কাছে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণ জানতে চাইবো।
উপজেলা যুব সংহতির আহবায়ক আশিক মিয়া প্রার্থী নির্বাচনে তার কোন হাত ছিলো না দাবি করে বলেন, সাংগঠনিক ভাবে দল দূর্বল থাকায় ও যোগ্য প্রার্থীর অভাবে দলের পরাজয় ঘটেছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটা ইউনিয়নে জাতীয় পাটির প্রার্থীর অভাব থাকায় আমি ব্যক্তিগত ভাবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে যোগ্য ব্যক্তি এনে এমপি সাহেবের মাধ্যমে জাতীয় পাটিতে যোগদান করিয়ে লাঙ্গল প্রতিকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার মনোনয়ন দিয়েছি। এতে দল সুসংহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় পাটির এমপি এহিয়া চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আপনার মন্তব্য