সিলেটটুডে ডেস্ক

৩১ মে, ২০১৬ ২০:০৪

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট জেলা বিএনপি'র আলোচনা সভা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি ঘোষিত ২ দিন ব্যাপী কর্মসূচীর শেষ দিন মঙ্গলবার (৩১ মে) এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নগরীর সোবহানীঘাটস্থ আগ্রা কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন  সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি জননেতা আলহাজ্ব এম. এ হক।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণর মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিকামী জনতাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ৭৫ সাল পরবর্তী সময়ে জাতির চরম ক্রান্তিকালে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়া দেশ ও জাতিকে তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পুনরায় উজ্জীবিত করেন। শহীদ জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশ তথা মুক্তিযুদ্ধ কল্পনা করা যায়না। একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শহীদ জিয়ার সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপ জাতিকে নতুন করে আলোড়িত করেছিলো। কিন্তু মানুষরূপী কতিপয় হায়েনা সফল রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানকে শহীদ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে অংকুরে বিনষ্ঠ করে দিয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বিশ্বের বুকে একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ সরকার শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যার মিশন শুরু করেছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। আর বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। দেশ ও জাতির চরম ক্রান্তিকালে শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আওয়ামী দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দীন আহমদ মিলন বলেন- শহীদ জিয়া একটি শুধু একটি জীবন নয়, একটি আদর্শ ও একটি বীরত্ব গাথা ইতিহাসের নাম। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে। ততদিন ইতিহাসের পাতা থেকে শহীদ জিয়াকে মুছে ফেলার সাধ্য কারো নেই। জনতার জিয়া মরে নি, মরতে পারে না। শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই আওয়ামী বাকশালীদের হাত থেকে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সর্বস্তরের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে এগিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন- মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হন নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়া একটি উজ্জ্বল প্রেরণার নাম। ষড়যন্ত্রকারীরা জনতার জিয়াকে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা  ও সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিতে চেয়েছিল। শহীদ জিয়ার সুযোগ্য সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্রকামী জনতা নতুনভাবে তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছিল। ক্ষমতাসীন অবৈধ আওয়ামী সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মানুষের লাশের উপর দাড়িয়ে বন্দুকের জোরে তাদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা বেঁচে থাকতে তাদের সেই স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হবেনা। শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক জনতা শহীদ জিয়া প্রবর্তিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবেই ইনশাআল্লাহ।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে শিরণী বিতরণ করা হয়। নগরীর বিভিন্ন এতিমখানায় বিএনপির উদ্যোগে ইয়াতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া সিলেট জেলার আওতাধীন সকল উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে স্ব-স্ব এলাকায় আলোচনা সভা, শিরণী বিতরণ ও ইয়াতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচী পালিত হয়।

সিলেট জেলা ওলামা দল নেতা মাওলানা আমিনুল হকের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সূচীত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক  সাবেক এমপি কলিম উদ্দীন আহমদ মিলন, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, পেশাজীবী পরিষদ নেতা বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শামীমুর রহমান, সিলেট জেলা  বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল গাফফার, সাবেক এমপি আবুল কাহির চৌধুরী, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদল সভাপতি আব্দুল মান্নান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মঈনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন। বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম ময়ুর, সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক সালেহ আহমদ খসরু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সদস্য জাহানারা ইয়াসমিন, জেলা ওলামা দল নেতা মাওলানা নুরুল হক ও জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বাচ্চু।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি সভাপতি জালাল উদ্দীন চেয়ারম্যান, গোয়াইনঘাট উপজেলা সভাপতি ওসমান গনী, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সুফিয়ানুল করিম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম তারেক কালাম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, মহানগর বিএনপি নেতা সৈয়দ মঈনুদ্দিন সোহেল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জিলাল উদ্দীন চেয়ারম্যান, জৈন্তাপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সুরমান আলী, মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ মিয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আহমদ চৌধুরী ফয়েজ, বিএনপি নেতা এডভোকেট আক্তার হোসেন, আব্দুল হান্নান, শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, আজির উদ্দীন চেয়ারম্যান, এইচ এম খলীল চেয়ারম্যান, গোলাম রব্বানী, ফখরুল ইসলাম ফারুক, জিল্লুর রহমান সোয়েব, বজলুর রহমান ফয়েজ, হাবীবুর রহমান হাবীব, মনিরুল ইসলাম তুরন, নিজাম উদ্দীন জায়গীরদার, মুফতী নেহাল উদ্দীন, কাজ মুহিবুর রহমান, আল মামুন, হাজী ইলিয়াস মিয়া, ইসলাম উদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট ফখরুল হক, মঞ্জুর কাদির শাহী, মুহিবুর রহমান, মঈনুল ইসলাম মঞ্জু, মকছুদুল করিম নোহেল, হাজী গোলজার, ছালিক আহমদ চৌধুরী, এনামুল হক মাক্কু, মাহমুদুল হক সোহেল, ফয়সল আহমদ টিপু, আক্রম আলী মাসুক,আইয়ুব আলী সজীব, রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ এনায়েত হোসেন, বোরহান উদ্দীন, আব্দুল লতিফ খান, আব্দুল হান্নান, শামসুর রহমান শামীম, মুহিব আহমদ, আজির উদ্দীন, ওলীউর রহমান, ইসলাম উদ্দীন, আজিজুর রহমান বকুল, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক লোকমান আহমদ, ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম, হানুর ইসলাম ইমন, লিটন আহমদ, আব্দুল মালেক, নাসির আহমদ, সুমেল আহমদ চৌধুরী, মাসুম পারভেজ, সোহেল ইবনে রাজা, শেখ ইমরান  ও আলী আকবর রাজন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত