এমডি মুন্না, জগন্নাথপুর

০১ জুন, ২০১৬ ০০:৫৬

জগন্নাথপুরে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, ইমাম গ্রেফতার

জগন্নাথপুরে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় এক ইমামকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক আয়া চাকুরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কম্পাউন্ড এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। তাদের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। আয়ার মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। হবিবপুর গ্রামের আফজল মিয়া নামে এক ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

জগন্নাথপুর থানা পুলিশ জানায়, গত ২ মে আফজল তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের মেয়র বাড়ি পাঞ্জাখানা মসজিদে নিয়ে যান। এসময় মসজিদের ইমামকে দিয়ে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধর্ষণ করে। মসজিদের ইমাম বিয়ে করানোর কথা বলে বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে ধর্ষণ করতে সহযোগিতা করেন।

এ সময় ধর্ষক আফজল ধর্ষণের দৃশ্যটি তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখে।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তখন বিয়ের ব্যাপারে মেয়ের পরিবার থেকে ছেলে পরিবারকে চাপ দেয়া হলে ভিডিওতে ধারণ করা অশ্লীল দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ৩০ মে ধর্ষিতার পিতা আমির হোসেন বাদি হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ধর্ষক আফজল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও মামলার সহযোগি আসামি মসজিদের ইমাম আমিনুর রহমানকে গত সোমবার রাতে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

তিনি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার স্বস্তিপুর গ্রামের কুদরত আলীর ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত ইমামকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ ও ধর্ষিতাকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) খান মোঃ মাঈনুল জাকির জানান, গ্রেফতারকৃত ইমাম ও ধর্ষিতা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে ধর্ষিতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ধর্ষককে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত