০১ জুন, ২০১৬ ২১:১৬
তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছিলো গত ফেব্রুয়ারিতে। হাইকোর্ট থেকেও তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশনা কয়েকদফা পাঠানো হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা আর সিলেট আদালতে এসে পৌছে না। ফলে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারাগারেই বন্দি থাকতে হয় কমলা বানু (৪০)কে।
অবশেষে বুধবার বিকেলে ব্লাস্টের উদ্যোগে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন কানাইঘাটের এই গৃহবধূ। যিনি পারিবারিক কলহের একটি মামলায় সাজা ভোগ করেন।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে ২০০৮ সালের ১ জুন সিলেটের কানাইঘাটের ৮ নং ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি নয়ামাটি (দক্ষিন) গ্রামের স্বামী তৈয়ব আলীকে খুন করেন কমলা বানু। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা হয় ২(৬)২০০৮। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ শুনানীতে কমলার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত ৩০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন কমলা বানু। তার আপীলের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদন্ড ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের কারাদন্ড দেন। এ অবস্থায় তার সাজার মেয়াদ শেষ হয় এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত ও সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মুক্তি পরোয়ানা পাঠানো হয়।
ওই মুক্তি পরোয়ানা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌছলেও আদালত থেকে কোন পরোয়ানা না পাওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়নি। এভাবে কয়েক দফা হাইকোর্ট থেকে মুক্তি পরোয়ানা কারাগারে পৌছলেও আদালতে না আসায় কমলার মুক্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। সম্প্রতি এ বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ ব্লাস্ট প্যারালিগ্যাল কমিটি (পিএলসি) কে বিষয়টি জানায় কারা কতৃপক্ষ। তারা হাইকোর্ট থেকে মুক্তি পরোয়ানা আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। গত সোমবার দ্বিতীয় দফা মুক্তি পরোয়ানা আসে আদালতে। আদালত থেকে মুক্তি পরোয়ানা পাঠানো হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে।
৩ মাস ১০ দিন অতিরিক্ত সাজা ভোগ করার পর সর্বশেষ বুধবার বিকালে মুক্তি পান কমলা বানু। কারাগারে তাকে বরণ করেন তার ভাই ফারুক মিয়া ও ভাগ্নে এনাম মিয়া। কানাইঘাট থেকে তাদেরকে নিয়ে আসে পিএলসি।
এ ব্যাপারে সিলেটের ব্লাস্ট কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তাদের পিএলসি গ্রুপ এ সংবাদ জানার পর পরই উদ্যোগ নেয়। তারা উদ্যোগী হওয়ায় মুক্তি পেয়েছেন কমলা বানু। তিনি আরো জানান এধরনের জটিলতার কারনে প্রায়ই অনেক আসামী সঠিক সময়ে মুক্তি পেতে বিলম্ব হয়। সাজা শেষ হওয়ার পর যাতে কেউ একদিন জেলে না থাকে সে ব্যাপারে আমাদেরকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।
আপনার মন্তব্য