০৬ জুন, ২০১৬ ২০:২৯
সিলেট নগরী থেকে নূরে আলম (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতকৃত ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ‘জিনের বাদশা’ নূরে আলম সিলেট নগরীর ভাতালিয়ার মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে।
সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন জানান- নূরে আলম নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতো। কোন নিঃসন্তান সহজ সরল গৃহবধূ মাজারে আসলে কৌশলে তার মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করতো। পরে প্রতারণামূলক নানা রকমের কথাবার্তা বলে সে নি:সন্তান গৃহবধূদের টোপে ফেলে তাবিজ-কবজের মাধ্যমে সন্তান লাভের আশা দিয়ে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিতো।
সম্প্রতি এমন প্রতারণার শিকার হন ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝিলটুলি মোল্লাবাড়ির গৃহবধূ সুলতানা লাইজু (৩৯)। নূরে আলম নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে লাইজুর সাথে গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলতো।
বিভিন্ন রকম আধ্যাত্মিক কথা, গজল, কোরআনের আয়াত, ইসলামিক কবিতা শুনিয়ে লাইজুর কাছে নিজেকে জিনের বাদশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
একপর্যায়ে লাইজু ‘জিনের বাদশা’ নুরে আলমকে জানায়, সে নি:সন্তান হওয়ায় তার সংসারে অশান্তি চলছে। তখন নূরে আলম তাবিজ-কবজের মাধ্যমে তাকে সন্তান পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সকল স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে আসতে বলে।
লাইজু তার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গাবতলীতে আসলে নূরে আলম কৌশলে তা হাতিয়ে নেয়। এর দুইদিন পর সন্তান লাভের তাবিজ-কবজের জন্য আরো ২০ লাখ টাকা দাবি করে নূরে আলম। টাকা না দিলে লাইজুর পুরো পরিবারের ক্ষতির হুমকি দেয় সে।
ভয় পেয়ে লাইজু বাড়ি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তা নূরে আলমের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়। টাকা কোথায় নিয়ে আসতে হবে জানতে চাইলে নূরে আলম শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে আসতে বলে। এরপর থেকে রহস্যজনক কারণে নূরে আলম যোগাযোগ কমিয়ে দিলে লাইজুর সন্দেহ হয়।
প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে লাইজু বিষয়টি সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ইকবাল হোসাইনকে জানায়।
গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় নূরে আলমের কথামতো টাকা দিতে নগরীর তাজমহল হোটেলের কাছে আসেন লাইজু ও তার স্বামী। এসময় কথিত জিনের বাদশা নূরে আলম টাকা নিতে আসলে ওৎ পেতে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার কাছ থেকে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমতউল্লাহ বলেন, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে কিছু প্রতারক এরকম টাকা-পয়সা লুটে নেয়। কেউ এরকম প্রতারণার শিকার হলে সাথেসাথে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য