০৯ জুন, ২০১৬ ০০:০৯
সিলেট নগরীর টিলাগড়ের মাদানীবাগ এলাকায় দুর্ঘটনায় দু'জন নিহত হওয়ার পর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিককে আটক করার পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। শাহপরান থানা পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির মালিক গাড়িতে থাকলেও গাড়ি চালক চালাচ্ছিলেন। তাই তাকে আটক করাই হয়নি।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রাইভেটকারের মালিক মোহাম্মদ মিনুই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার (৭ জুন) মাদানীবাগে প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের প্রসাশনিক কর্মকর্তা অরিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রী শিক্ষিকা সুমিতা দাস। এই ঘটনায় আহত হয় তাদের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে অরুনিমা রায় স্নেহা।
আরও পড়ুন : 'দুর্ঘটনা আঁচ করতে পেরে বাবা-মা জড়িয়ে ধরেন আমাকে'
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন দুর্ঘটনার জন্য প্রাইভেটকারের চালকই দায়ী। বেপোরয়া গতিতে কারটি রাস্তার ডানপাশে সরে এসে সিএনজি অটোরিকশাকে সজোরে আঘাত করে। নিহত হন দু'জন অটোরিকশার যাত্রী।
নিহত সুমিতা দাসের ভাই পার্থ প্রতিম দাস সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "প্রতক্ষ্যদর্শীরা আমাদের জানিয়েছেন গাড়ির মালিক নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে আটক করেও ছেড়ে দেয়"।
তবে আটকের খবর অস্বীকার করে শাহপরান (রঃ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা কাউকে আটক করিনি, দুর্ঘটনার পর গাড়ির মালিক নিজেই আমাদের কাছে এসেছিলেন। গাড়িটি তাঁর চালক চালাচ্ছিলেন, সে পালিয়ে গেছে। তাই গাড়ির মালিককে আমরা আটক করিনি।'
যদিও মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে পুলিশের ভ্যানে বসা রয়েছেন গাড়ির মালিক মোহাম্মদ মিনু। একজন পুলিশ সদস্য তাকে পাহারা দিচ্ছেন। মিনুকে আটক করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন ওই পুলিশ সদস্য।
আরও পড়ুন : সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কলার্সহোমের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী নিহত
প্রাইভেটকারটির মালিক শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মিনু বলেন, "গাড়িটি আমার চালক শহীদ চালাচ্ছিল, আমি সামনের সিটে বসে ছিলাম।" নিহত অরিজিৎ-সুনিতা দম্পতি তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "স্নেহা আমার মেয়ের ক্লাসমেট। এই ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত। তবে আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম বলে যেসব গুজব ছড়িয়েছে তা ভিত্তিহীন"। সেই চালক এখন কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলে, "সে তো সাথে সাথেই ভাগছে, ওর বাসা আমার বাসার সামনেই"।
আরও পড়ুন- বাবা-মা নেই, এখনো জানে না স্নেহা
স্কলার্সহোম মেজরটিলা শাখার শিক্ষক সায়েম বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখি পুলিশ-সহ ১০/১৫ জন সেখানে জড়ো হয়ে আছেন। এ সময় গুরুতর আহত সুনিতা মোহাম্মদ মিনুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনি কি ঈশার বাবা?
এরপর আর তিনি কোন কথা বলতে পারেন নি।" তবে কে গাড়ি চালাচ্ছিল সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৭ জুন) সকালে নগরীর মদনীবাগ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্নেহার বাবা স্কলার্স হোম (শাহী ঈদগাহ শাখা) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিৎ রায় (৫০) ও মা দক্ষিন সুরমার মহালক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস (৪৫)। এ দুর্ঘটনায় তাঁদের একমাত্র সন্তান অরুনিমা রায় স্নেহা (১২) গুরুতর আহত হয়। স্নেহা স্কলার্সহোমের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
আপনার মন্তব্য