১৬ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:২৬
বেলা তখন সকাল ১১টা। মেহরাজুল ইসলাম চৌধুরী কাজ করছেন ব্যাংকে। হঠাৎ তাঁর মোবাইল ফোনে আসলো একটি ক্ষুদেবার্তা।
ক্ষুদে বার্তাটি খোলে দেখেন এতে লেখা আছে ‘সম্মানিত অভিভাবক, আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আপনার পরিবারের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম চৌধুরী আজ শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়নি। ধন্যবাদান্তে, অধ্যক্ষ, এমসি একাডেমী স্কুল এ্যান্ড কলেজ, গোলাপগঞ্জ।’
মেহরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমার ছেলে আজ ক্লাসে না যাওয়ায় বিদ্যালয় থেকে এমন একটি ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে আমাকে অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি পড়ে প্রথমে আমি অবাক হলেও পরে আমার ছেলের কাছ থেকে জানতে পারলাম শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির অংশ হিসেবে তাদের বিদ্যালয় ‘এমসি একাডেমী স্কুল এ্যান্ড কলেজ' চালু করেছে মোবাইল মেসেজ পদ্ধতি। বিষয়টি শোনে আমার অনেক ভালো লেগেছে। এতে করে আমার ছেলে স্কুলে না গেলে আমি ঘরে বসেই জানতে পারবো। ফলে আমার ছেলের পড়ালেখার ক্ষেত্রে আমার আরো সচেতনতা তৈরি হবে।
জানা যায়, শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগ থেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ‘এমসি একাডেমী স্কুল এ্যান্ড কলেজ ও রনকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। এই দুইটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে চালু করেছে ‘ মোবাইল ক্ষুদে বার্তা পদ্ধতি।’ বর্ণ সফট নামের একটি সফটওয়ারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। যার সাহয্যে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মোবাইলে একটি করে ‘ক্ষুদেবার্তা’ (মেসেজ) পাঠানো হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের যে কোন মিটিং, বন্ধ বা শিক্ষার্থীর অন্যান্য তথ্যও পাঠানো হয় তার অভিভাবকের কাছে।
এমসি একাডেমী স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনসুর আহমদ চৌধুরী বলেন, ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি চিঠি আসে সকল প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক একটি করে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি কারার জন্য। এই নির্দেশনার পর আমরাও একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছি। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সকল ক্ষেত্রে আমাদের যোগাযোগ প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। একটা সময় চিঠি আদান প্রদানে যে সময় ব্যয় হতো এখন আর তা হয় না। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাতে অমাদের প্রতিষ্ঠানে চালু করেছি ‘মোবাইল ক্ষুদে বার্তা পদ্ধতি’ (মোবাইল মেসেজ)। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীর ক্লাসে অনুপস্থিতি সহ বিভিন্ন তথ্য সরাসরি অভিভাবককে জানানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যাও বেড়েছে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জান যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আওতায় রয়েছে মোট ৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজ মিলে ৪১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মোট ২২টি।
জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আওতাভুক্ত মোট ৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ল্যাপটপ ও একটি করে প্রজেক্টর দেওয়া হয়েছে। আর বাকি ৫টি প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ল্যাপটপ ও একটি করে প্রজেক্টর দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে বলে জানা যায়।
রনকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমা বেগম বলে, আমরা অনুপস্থিত থাকলে আমাদের অভিভাবকদের ফোনে মেসেজ যায়। এতে আমাদের অভিভাবকরা আমাদের সম্পর্কে জানতে পারে। তাছাড়া প্রজেক্টর দিয়ে যখন স্যাররা ক্লাস করান তখন আমাদের অনেক ভালো লাগে।
রনকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক বিজিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তার আওতায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে ল্যাপটপ ও একটি করে প্রজেক্টর দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে চালু করেছি মোবাইল ক্ষুদে বার্তা’ (মোবাইল মেসেজ) পদ্ধতি। এর সাহায্যে একজন অভিভাবক ঘরে বসেই তাঁর সন্তানের সকল তথ্য পাবেন। এছাড়াও আগামীতে শিক্ষার্থীদের বেতন, ফলাফল সহ সকল কিছুই এর আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রকল্পের গোলাপগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রিমা দাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষমাত্রা বাস্তবায়নে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ল্যাপটপ ও একটি করে প্রজেক্টর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকায়ন হয়েছে। তাছাড়া এমসি একাডেমী স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং রনকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় 'মোবাইল ক্ষুদে বার্তা' (মোবাইল মেসেজ) চালু করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
আপনার মন্তব্য