নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১৬

ফুটপাত দখল: মেয়রের তালিকায় সন্তুষ্ট নয় আদালত, পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেয়ার নির্দেশ

কয়েকদফা সময় প্রার্থনা আর তলবের পর সোমবার আদালতে নগরীর ফুটপাত দখলদারদের আশ্রয়দাতাদের তালিকা জমা দেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌছুল হোসেন। তবে তাদের তালিকায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি আদালত। ফলে ১৯ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট মহানগর মূখ্য হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো।

এমনটি জানিয়েছেন এই আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, মেয়র ও ওসি সোমবার দুপুরে ফুটপাত দখলের পেছনে মদদদাতা হিসেবে ৩৮ জনের একটি তালিকা জমা দেন। তালিকার প্রথমেই রয়েছে মহানগর হকার্স কল্যান সমিতির সভাপতি আব্দুর রকিবের নাম। এছাড়া হকার্স সমিতির আরও কয়েকজন নেতা, অটোরিকশা ও টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের একাধিক নেতার নাম রয়েছে। তবে তালিকায় তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও ঠিকানা দেওয়া হয়নি। আদালত ১৯ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, আদালতে জমা দেওয়া তালিকার দায় নিতে চাননি মেয়র ও ওসি। দু’জনই একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছেন।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ তদন্ত করে তালিকা তৈরি করেছে। আমি সে তালিকা আদালতে জমা দিয়েছি।

আর ওসি গৌছুল বলেন, তালিকা করার জন্য মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মেয়র আমাদের কাছে হকার সমিতির কমিটির নাম চেয়েছিলেন। আমরা কমিটি ২০/২৫ জনের নাম তাঁকে প্রদান করেছি। এরপর তিনি সেই কমিটির তালিকাই আদালতে প্রদান করেছেন না অন্য কোনো কোনো তালিকা প্রদান করেছেন তা আমার জানা নেই।

উল্লেখ্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে সিলেট সিটি মেয়রকে নির্দেশ দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। এ ক্ষেত্রে মেয়রকে সহযোগিতার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকেও নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মে নগরীর ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসিক। এ বৈঠকের পর গত ১ জুন থেকে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিসিক। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সে অভিযানে ভাটা পড়লে অবৈধ দখলদাররা ফিরে আসে।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলকারী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়নি সিসিক। গত ৮ জুন মেয়র প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তাকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। এর পর আরও তিন মাস অতিবাহিত হলেও মেয়র প্রতিবেদন দাখিল করেননি। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন আদালতের আদেশ মেনে প্রতিবেদন দাখিল করছেন না, তার ব্যাখ্যা দিতে গত ৭ অক্টোবর তাকে আদালতে তলব করা হয়। এতে ১৬ অক্টোবর আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো। এই নির্দেশের পর গতকাল তালিকা নিয়ে আদালতে হাজির হন মেয়র।

এপিপি মাহফুজুর রহমান জানান, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে আদালত মেয়রকে বলেছেন, সিলেট একটি পর্যটন ও আধ্যাত্মিক নগরী। এই নগরীতে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে দলমত ও ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগীতারও আশ্বাস দিয়েছেন আদালত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত