২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:৪৫
১২ বছরে পদার্পণ করছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) ৯। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এক যুগ পার করে এই এলিট ফোর্স। আজ ২৬ অক্টোবর বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে র্যাব-৯।
২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এলিট ফোর্স র্যাবের নবম ব্যাটালিয়ন হিসেবে টেক্সটাইল মিলস্, ইসলামপুর, সিলেটে র্যাব-৯ এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ নিয়ে র্যাব-৯ গঠিত হয়ে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়।
জঙ্গীবাদ দমনে প্রথমে ‘বাসাবো অভিযান’ সূচনা করেছিল এই র্যাব-৯। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের সূর্য দীঘল বাড়ী, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং গাজীপুরে সফল অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জঙ্গী নেতাদের গ্রেফতার করে এই ব্যাটালিয়ন; ফলে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর র্যাব-৯ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বিভক্ত হয়ে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জ জেলা নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪ আত্মপ্রকাশ করে। সিলেট বিভাগের ৪ জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ নিয়ে র্যাব-৯ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে।
সিলেটের আলোচিত আতিয়া মহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত “অপারেশন টোয়াইলাইট” এ ভিকটিম উদ্ধারে র্যাব-৯ এর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এবং পরবর্তীতে ‘‘অপারেশন ক্লিয়ার আতিয়া মহল” ছিল র্যাব-৯ এর একটি উল্লেখযোগ্য অভিযান।
র্যাব-৯ এর গত ০১ (এক) বছরের সফল অপারেশনাল কার্যক্রম ও চাঞ্চল্যকর উদ্ধারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ- জঙ্গী ৪ জন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ৪ জন, হত্যা মামলার আসামী ৭ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য মামলার আসামী ২ জন, অস্ত্র মামলার আসামী ১৫ জন, বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী ১২৯ জন, মাদক ব্যবসায়ী ১৬৮ জন, ডাকাতি মামলার আসামী ১২ জন, ছিনতাইকারী ৬ জন, মলম পাটি ৩ জন, নকল স্বর্ণের বারসহ আসামী ৩ জন, জাল টাকার ব্যবসায়ী ৬ জন, মানব পাচারকারী ৯ জন, ভূয়া র্যাব সদস্য ৯ জন, গাড়ী চোর ৫ জন, অপহরণকারী ১০ জন, ধর্ষণকারী ৪ জন ও বিকাশ চক্রের প্রতারক ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও বিস্ফোরকদ্রব্য এক্সপ্লোসিভ পাওয়ার জেল ৫২ টি, ডেটোনেটর ৫০ টি, অস্ত্র দেশী/বিদেশী ১৯টি, গুলি ৪০ রাউন্ড, জঙ্গী লিফলেট ৯২৭ টি, জঙ্গী সংক্রান্ত ম্যাগাজিন ২৫ টি, স্বর্ণের বার ১৬ টি, দেশী/বিদেশী মদ ৮,৬৩৯ বোতল, ইয়াবা ট্যাবলেট ৩৪,৯৭৯ পিস, গাঁজা ৪২২ কেজি, হেরোইন ৭৮৮ গ্রাম, মাদক বিক্রয়লদ্ধ নগদ অর্থ ১৩,২৯,০০০/- টাকা, বিদেশী রুপি ২,১০৫০০/-, প্রাইভেটকার ৭ টি, চোরাই মোটর সাইকেল ১৩ টি, সিএনজি/পিকআপ ১১ টি, ১৮ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন সময়ে অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র্যাব-৯ এর সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এতে মোবাইল কোর্ট আইনে অবৈধ ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। জরিমানাকৃত অর্থের পরিমান সর্বমোট প্রায় ৪৯,০০,০০০ টাকা। এভাবেই মানুষের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র্যাব-৯ দীর্ঘ ১২ বছর যাবত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
র্যাবের প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে আজ আমানউল্লা কনভেনশন সেন্টারে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান।
আপনার মন্তব্য