২৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৩৭
দীর্ঘ পনের বছরের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর। যদিও ২০০২ সালে জানুয়ারিতে শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হয়েছিলো। তবে ঘোষণার ১৫ বছর পর আজ থেকে শুরু হচ্ছে স্থলবন্দরের কার্যক্রম।
স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬৯ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তামাবিলে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মান ও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই স্থলবন্দরের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সাংসদ ইমরান আহমদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান, নৌ পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ উপস্থিত থাকবেন।
জানা যায়, স্থল বন্দরে উন্নীতের ঘোষণার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৫ সাল থেকে স্থল বন্দরের জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মান কাজ শুরু হয়। সে সময় ২০১৬ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্মান কাজের ধীরগতির কারণে গত বছরে তা চালু হয়নি।
তামাবিল দিয়ে প্রধানত কয়লা, চুনাপাথর, পাথর ও ফল আমদানি করা হয় এবং প্রসাধন সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও ইট রফতানি করা হয়।
তামাবিলে কোন স্থাপনা না থাকায় এতোদিন আমদানিকারকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাড়া করা জায়গায় আমদানিকৃত মালামাল সংরক্ষণ ও লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করতেন বলে জানান আমদানীকারকরা। দেশের ব্যস্ততম এই শুল্ক স্টেশনে ওয়েটব্রিজ না থাকায় আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যের সঠিক ওজন পরিমাপ করতে না পারায় সরকারও প্রচুর পরিমাণ শুল্ক হতে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য শুল্ক কর্মকর্তাদের। তামাবিলে স্থল বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে সিলেটের কাছাকাছি থাকা ভারতের সাত রাজ্যের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।
সংশ্লিস্টরা জানান, শুল্ক স্টেশনকে বন্দরে উন্নীতের কার্যক্রমের মধ্যে ২৩.৭২ একর ভূমি অধিগ্রহণ, এক লাখ নয় হাজার ৩৩০ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, দুই হাজার ৫০০ মিটার সীমানা দেওয়াল তৈরি, আট হাজার ১৮০ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, ২৭ হাজার বর্গমিটার ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড নির্মাণ, ৭৪৪ বর্গমিটার ওয়্যারহাউস নির্মাণ, এক হাজার ৩৪৯ বর্গ মিটার অফিস, ডরমেটরি ও ব্যারাক ভবন নির্মাণ, দুই হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণ, দুটি ওয়েটব্রিজ ও দুটি ১০০ মেট্রিকটন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওয়েহিং স্কেল এবং পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার ফটোকপি, জীপসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করা হয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার ্এই স্থলবন্দর চালু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুািত সম্পন্ন করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য