৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:২০
সিলেটে প্রাথমিক শিক্ষায় চরম শিক্ষক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জেলার ৪৯১ টি প্রাথমিক বিদ্যলয়েই নেই প্রধান শিক্ষক। আর সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ৫৫৬ টি। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সঙ্কট সবচেয়ে বেশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী এলাকায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিস্টরা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সর্বশেষ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন ক্যাডারদের নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন। এছাড়াও কিছু পদোন্নতির মাধ্যমেও প্রধান শিক্ষকের এসব শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। তাছাড়া সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ইতিমধ্যে নিযোগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই সহকারী শিক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সিলেটের মোট ১২টি উপজেলার ১৪৫২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশির ভাগেই শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। এরমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মিলে মোট ৪৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়েই দীর্ঘ দিন থেকে চলছে কার্যক্রম। আর এসব বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৫৫৬ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, শূন্য পদ সমূহের মধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৩১টি ও সহকারি শিক্ষক ১৯টি, বিশ^নাথ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৪০টি ও সহকারি শিক্ষক ২৯টি, বালাগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৭৩টি ও সহকারি শিক্ষক ৭৬টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৮টি ও সহকারি শিক্ষক ১১টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৬৫টি ও সহকারি শিক্ষক ৭৪টি, কানাইঘাট উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৩৯টি ও সহকারি শিক্ষক ৬৭টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ২৫টি ও সহকারি শিক্ষক ১৬টি, গোয়ানঘাট উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ৪৫টি ও সহকারি শিক্ষক ১৮টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ৩৪টি ও সহকারি শিক্ষক ৩৯টি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ১৯টি ও সহকারী শিক্ষক ১৪টি। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য ৬১টি ও সহকারি শিক্ষক ৪০টি, বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও সহকারি শিক্ষকের পদশূন্য রয়েছে মোট ১৫৩টি।
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিজ মিয়া বলেন, আমার উপজেলায় প্রায় ৮টির মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলোতে দুইজন বা তিনজন শিক্ষক দিয়েই চলছে। তাছাড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে যেখানে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। সঙ্কটের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শূন্য পদ পূরণে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এসব শূন্য পদ পূরণে সর্বশেষ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ন নন ক্যাডারদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও কিছু কিছু শিক্ষককে পদন্নোতির মাধ্যমেও এসব শূন্য পদ পূরণ করা হবে। তাছাড়া সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য নিযোগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য