৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:৫৭
এবার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।
সোমবার (৩০অক্টোবর) দুপুরে সংশ্লীষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণ কাজ পরিদর্শণ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন দাবি করে শফিক চৌধুরী বলেন, হাসপাতালের নির্মাণকাজে অনিয়ম করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ দেশের গ্রামীণ জনগোষ্টির স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষে আ’লীগ সরকারের আমলেই কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।
তিনি ওই এলাকার বর্তমান ইয়াহইয়া চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে বলেন, আ’লীগের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি সকল উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিচ্ছেন। তবে, হাসপাতালের নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে এমনকি আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি দেওয়া হবে।
উপজেলা আ’লীগের সভাপতি পংকি খানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আলতাব হোসেন এবং সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আতিকুর রহমানরে যৌথ পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য প্রকোৗশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুল ইসলাম সুহেল, সিলেটের সিভিল সার্জন ডাঃ হিমাংশু লাল রায়, উপসহকারি প্রকৌশলী মনিরুল হক, রামপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর।
এরআগে গত শনিবার (২৮অক্টোবর) হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহা-সচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। ওইদিন পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসপাতাল নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম দাবি করে বলেন, পাথর, বালি, ডাস্ট তো আছেই, পিলারের রডের সাথে যেভাবে রিং দেওয়ার কথা সেভাবে দেওয়া হয়নি। ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি পর পর রিং দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ১২থেকে ১৬ইঞ্চি পর পর দেওয়া হয়েছে ওই রিং। এছাড়াও কাঁচের জানালায় ব্যবহৃত গ্রীলের এঙ্গেল ৩এমএম’র পরিবর্তে ১.৫এমএম ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন জানালা মেপে দেখা গেছে ১ইঞ্চি করে কম রয়েছে। অনিয়মের পাশাপাশি কাজটিতে ব্যপক দূর্নীতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এমপি এহিয়া।
এদিকে সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রকোৗশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুল ইসলাম সুহেল বলেন, সাংসদ ইয়াহইয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেকটি ভবনের জানালার গ্রিল পরিবর্তন ও কলাম ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করার নির্দেশও ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১১কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ চলছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া হাসপাতালের নির্মানাধীন ৪টি ভবনের মধ্যে ‘৩য় তলা বিশিষ্ট নার্স ডরমেটরী, ২য় তলা বিশিষ্ট ক্লাস-টু ডরমেটরী, ৫মতলা বিশিষ্ট মেডিকেল অফিসার ভবন এবং অপিডি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আপনার মন্তব্য