৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:২৪
নগরীর আম্বরখানা-সাপ্লাই সড়কের ফুটপাতসহ মূল সড়কের বেশির ভাগ অংশই দখলে নিয়েছে সবজির ব্যবসায়ীরা। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের। লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট।
নগরীর বিভিন্ন সড়কে সিলেট সিটি কর্পোরশেন ফুটপাত দখলকারী হকারদের উচ্ছেদ অভিযান চালালেও এ সড়কে নেই তেমন কোনো অভিযান। ফলে অনেকটা স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখল করে বসেছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা।
সংকীর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কোম্পানিগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ, জাফলং সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাথর বোঝাই শত শত ট্রাক চলাচল করে। এতে প্রায়ই লেগে থাকে যানজট।
সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ফুটপাত দখল মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত আছে। পর্যাক্রমে এটাও উচ্ছেদ করা হবে।
আম্বরখানা হাবিব উল্লাহ মার্কেটের আলম স্টোরের সত্ত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম বলেন, এই সড়কটি এমনিতেই ছোট। আর সবজির ব্যবসায়ীরা রাস্তার পাশ দখলে রাখার কারণে আরো ছোট হয়ে বেশির ভাগ সময়ই যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া প্রতিদিন অনেক ট্রাক এই পথে চলাচল করে। সড়কের উপরে বসে কেনাবেচা হওয়ায় অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থাকে। আম্বরখানা মোড় থেকে বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশের হকার উচ্ছেদ করতে সিটি কর্পোরেশন থেকে অভিযান করা হলেও এই সড়কে অভিযান চালাতে দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় নগরীর আম্বরখানা-সাপ্লাই অভিমুখী সড়কের বাম পাশের পুরো ফুটপাতসহ মূল সড়কের কিছু অংশ দখল করে রেখেছেন সবজির ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া ডান পাশের ফুটপাতের কিছু অংশ দখলে নিয়েছে ভাসমান হকার। এতে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে হাটছেন মূল সড়কে। তাছাড়া সড়কের উপর পর্যন্ত সবজির দোকান থাকায় মূল সড়কে দাড়িয়েই চলছে সবজির কেনাবেচা। ক্রেতারা মূল সড়কে দাড়িয়েই কিনছেন সবজি। এতে সংকীর্ণ এই সড়কটি আরো সংকীর্ণ হয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
কথা হয় ময়না নামের এক সবজির ব্যবসায়ী একজনের সাথে। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পেটের দায়ে এখানে বসি। তাছাড়া আম্বরখানায় নির্ধারিত কোন সবজির বাজার না থাকায় আমরা বাধ্য হয়েই ফুটপাতে বসি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, আম্বরখানা থেকে বড়বাজার রাস্তার মূখ পর্যন্ত মোট ৪০টি সবজির দোকান রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ধরণের দোকান রয়েছে প্রায় ২৫টি। এই প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে চাঁদা দেন বলে জানান তিনি। তবে কাকে এই চাঁদা দেন তা বলতে রাজি হননি তিনি।
সাপ্লাইর বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, আজ থেকে এক বছর আগে এখান থেকে সবজির বাজার তুলে দেওয়া হয়েছিলো। পরে তারা কিভাবে আবার বসেছে তা জানা নয়। এর পরে আর কোন অভিযান হতে দেখিনি আমি। তবে তাঁর জানামতে সকল ব্যবসায়ীরা পুলিশকে প্রতিদিন একটি টাকা দেন বলে জানান তিনি।
সিএনজি চালক রফিক মিয়া বলেন, রাস্তাটি এমনিতেই ছোট। এর মাঝে তারা দখল করে রাখে অর্ধেক। তাই বেশির ভাগ সময়ই যানজট লেগে থাকে। এতে গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে এটিও উচ্ছেদ হবে। আপাতত কোর্টপয়েন্ট, বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার এসব জায় অভিযান চালানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সকল ফুটপাত দখল মুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে। যদিও এতে কিছু সময় লাগবে তবে নগরীর সকল ফুটপাত দখল মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তাছাড়া আম্বরখানায় সিটি কর্পোরেশনের একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী সবজির বাজারের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এখন যে ভাবে বিভিন্ন মহলে টাকা দিয়ে সবজির ব্যবসায়ীরা ফুটপাতে বসছেন ঠিক তেমনই সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে বসতেও সবজির ব্যবসায়ীদের একটি নির্ধারিত পরিমান ভাড়া সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করতে হবে বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য