০৮ জুন, ২০১৫ ১৬:৪৫
বিজ্ঞান লেখক, ব্লগার ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার ঘটনায় এক ফটো সাংবাদিককে গ্রেফতার করে ৭দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলী স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেট-এর ফটো সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত।
আজ সোমবার সিলেট মহানগর হাকিম-২ আদালতের বিচারক ফারহানা ইয়াসমিনের আদালতে ইদ্রিস আলীকে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। আদালত এ সময় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আটক ইদ্রিস আলী বিমানবন্দর থানার ফতেহগড় গ্রামের মোহাম্মল ইলিয়াস আলীর পুত্র। তাকে গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করেছেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের পুলিশ সুপার আব্দুল্লা হেল বাকী।
মামলাটির তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ও অনন্ত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরমান আলী। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে. ইদ্রিস জঙ্গি অপরাধী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। গত ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে খুন হন ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ।
আরমান আলী আরও জানান, অনন্ত হত্যার সময় ইদ্রিস আলী ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন, এবং ঘটনাস্থল থেকে তার তোলা ছবি অনন্ত হত্যার পরদিন দৈনিক সবুজ সিলেটে প্রকাশিত হয়।
গ্রেফতারের পর ইদ্রিসকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে অনন্ত বিজয় দাশ তাঁর কর্মস্থল পুবালী ব্যংকে যাওয়ার পথে বাসা থেকে কয়েকশ’ মিটার অদূরে সিলেট শহরের সুবিদবাজার এলাকার বনকলাপাড়ায় জঙ্গি সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন। সন্ত্রাসীরা তাঁর মাথায় এলোপাথাড়ি কুপাতে থাকলে ঘটনাস্থলে মগজ ছিটকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বরাত দিয়ে একজন পথচারী জানান, খুনিরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকা ত্যাগ করে।
অনন্ত খুন হবার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হত্যার দায় স্বীকার করে আনসার বাংলা-৮ নামের একটি টুইটার একাউন্ট। সেখানে দাবি করা হয়। অনন্তকে তারাই হত্যা করেছে, নিজেদের আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় সহযোগী দাবি করে তারা। ১২ মে সন্ধ্যাতেই অনন্ত বিজয়ের ভাই রত্নেশ্বর দাশ অজ্ঞাত চার দুর্বৃত্তকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা (নং-১২(৫)১৫) দায়ের করেন।
আপনার মন্তব্য