০৯ জুন, ২০১৫ ২২:০১
‘বিয়ানীবাজার ভবনের’ ভূমিদাতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক লন্ডনের কমিউনিটি নেতা শামছুদ্দিন খানের সাথে সিলেটস্থ বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেছেন- সিলেটস্থ বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি এলাকাবাসীর জন্য ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সুখ-দুঃখে, সমস্যা-সংকটে এ সমিতি এলাকার মানুষের পাশে আছে, পাশে থাকবে। সিলেটে বসবাসকারী ছাড়াও বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে এ সমিতি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে অভিমত বক্তাদের।
সোমবার রাত ৮টায় মেন্দিবাগস্থ হোটেল গার্ডেন ইন হল রুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ডা. ফয়েজ আহমেদ। সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া মতবিনিময় সভায় শামছুদ্দিন খান ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- সমিতির উপদেষ্ঠা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক লোকমান আহমদ, সমিতির সহসভাপতি আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মো. মহব্বত খান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোস্তাবুর রহমান, আইনজীবী আব্বাস উদ্দিন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, বিয়ানীবাজার সমিতি একটি ডাইরেক্টরী করবে, যাতে বিয়ানীবাজারের সকল ব্যক্তির নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ থাকবে। এলাকার দুস্থ মানুষের চিকিৎসার্থে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ সমিতি মেডিক্যাল ক্যাম্প করে উন্নয়ন কার্যক্রমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। কাজের মাধ্যমে সংগঠন ভিত্তিক ‘মডেল’ হতে চায় এই সমিতি।
সভায় শামছুদ্দিন খান কর্তৃক বিয়ানীবাজার সমিতির ভবনের জন্য ১০ শতাংশ ভূমি দানের ভূঁয়সী প্রশংসা কওে বক্তারা বলেন- ৫১ বছর ধরে ধারাবাহিক এলাকার মানুষের কল্যাণে এ সমিতি কাজ করে যাচ্ছে। এখন এই সমিতি বিয়ানীবাজারবাসীর প্রাণ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সমিতির কার্যক্রম আরো গতিশীল করার আহবান জানানো হয়।
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের অন্যতম উদ্যোক্তা সমাজসেবী শামছুদ্দিন খান বলেন, যে কোনো ঐতিহাসিক কারণে অনেক এলাকা পরিচিত হয়ে ওঠে। ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনে বিয়ানীবাজার আরো বহুল পরিচিতি লাভ করছে। তিনি বলেন- এই অঞ্চলে বহু জ্ঞানী-গুণীর জন্ম হয়েছে। তাদের নিয়ে ইতিহাস লিখে রাখা প্রয়োজন। বিয়ানীবাজারের মানুষ শিক্ষা অর্জন করে এলাকার মান যাতে আরো বাড়াতে পারে এ জন্য শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভার শুরুতে অতিথি শামছুদ্দিন খানকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সম্মাননার জবাবে প্রস্তাবিত বিয়ানীবাজার ভবনের পাশে একটি মসজিদও করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
আপনার মন্তব্য