ডেস্ক রিপোর্ট

১১ জুন, ২০১৫ ১২:৫২

শেরপুরে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

 

আসন্ন রমজান মাসে বিনা বেতনে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও মাসিক বেতনের সমপরিমান ঈদ বোনাস প্রদান, বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ঘোষণা, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট কার্যকর, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, ৮ ঘন্টা কর্ম দিবস, নিয়োগ পত্র, পরিচয় পত্রসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন, শ্রীমঙ্গলে স্থায়ী শ্রম আদালত ও যুগ্ম-শ্রম পরিচালকের কার্যালয় স্থাপনের দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫-এর শেরপুর আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর গোলচত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তীতে শেরপুর গোলচত্ত্বরে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। হোটেল শ্রমিকনেতা শংকর দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বিঃ২০৩৭-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধ্রবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫) এর সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল। হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর আ লিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমডি দুলাল আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহিন মিয়া ও রিকশা শ্রমিক সংঘের সভাপতি সোহেল আহমেদ প্রমূখ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি আবুল কালাম আজাদ বলেন পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সিয়াম সাধনার বার্তা নিয়ে আসলেও অধিকাংশ হোটেল শ্রমিকদের জন্য সিয়াম সাধনার পরিবর্তে নিয়ে আসে অজানা আশঙ্খা। কারণ দীর্ঘ ১১ মাস চাকরী করার পর রমজান মাস আসলে ব্যবসা মন্দার অজুহাত দেখিয়ে অধিকাংশ মালিকরা হোটেল শ্রমিকদের বিনা বেতনে ছাঁটাই করে দেন। ফলে পবিত্র এই মাসে ছাঁটাইকৃত হোটেল শ্রমিকদের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা, পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রমিকরা সিয়াম সাধনার পরিবর্তে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। এমনকি শ্রমিকরা ঈদের আনন্দ উৎযাপন থেকেও বঞ্চিত হয়। অথচ শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে মালিকদের পুঁজি আরাম-আয়েশ বৃদ্ধি হয় আর শ্রমিকদের সৃষ্ট মুনাফায় মালিকপক্ষ মহাধুমধামে ঈদ উৎযাপন করেন। ঈদের সময় হোটেল শ্রমিকরা কোন উৎসব বোনাস পান না। ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর সরকার হোটেল শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করেন, ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে এক মাসের বেতনের সমপরিমান বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদানের আইন করা করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল সরকার ঘোষিত গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেঁস্তোরা মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের মধ্যে লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অথচ হোটেল মালিকরা সরকারী আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে এই সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু আইনগতভাবে নয় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের দিক থেকেও হোটেল শ্রমিকদের রমজান মাসে বিনাবেতনে ছাঁটাই করা অন্যায়।

শ্রমিকরা তাদের আইনসঙ্গত অধিকার বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ-শ্রম পরিচালক, শ্রম পরিদর্শক, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, ব্যবসায়ী সমিতি ও হোটেল মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের বার বার লিখিতভাবে আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। উপরন্তু শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত দাবিকে দমন করার জন্য মালিকরা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামালসহ নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে চলছেন। হোটেল শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।




আপনার মন্তব্য

আলোচিত