২১ জুলাই, ২০১৫ ০২:৪৫
শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনায় সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মামলার অন্যতম আসামি চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না। তবে জবানবন্দিতে হত্যার জন্য সে কামরুল ও মুহিতকেই বেশি দায়ী করেছে। নিজে রাজনকে বেঁধে সে-ই কামরুল ও মুহিতকে খবর দেয় বলে জানায় ময়না।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আদালতে ময়নার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ময়না বলে, আলী হায়দারের একটি ভ্যানগাড়ি ঘটনার দিন টুকেরবাজার তেমুখি সংলগ্ন খাঁন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে রাখা ছিলো। ঘটনার দিন সকাল ছয়টার দিকে রাজনসহ কয়েকজন শিশু খেলার ছলে ভ্যানগাড়িতে ওঠে। অপর এক ব্যক্তি ময়নাকে ডেকে বলে- তার ভ্যানগাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
এসময় ময়না শিশুদের তাড়া করলে অন্য শিশুরা দূরে সরে যায়। রাজন পালাতে পারেনি। এসময় রাজনকে জাপটে ধরে বেঁধে রাখে। বাঁধার পর ‘চোর’ ধরেছে বলে আলী হায়দারের বাড়িতে খবর দেয়।
এরপর কামরুল, আলী হায়দার, মুহিত আলম, পাভেলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে শিশু রাজনকে নির্মম নির্যাতন করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাজনের মৃত্যু হয়।
প্রথম দফায় নিজেও রাজনকে মারধর করে উল্লেখ করে ময়না জানায়, তার মারধরে রাজনের মৃত্যু হয়নি। স্বীকারোক্তিতে ময়না বলে, কামরুল, তার ভাই মুহিদুল ও পাভেল নামের এক যুবক এসে রাজনকে বেধড়ক মারপিট করে। তাদের মারপিটেই রাজন মারা যায়। তবে সে কামরুলদেরকে মারধর করার সময় সহযোগিতা করেছে বলে আদালতকে জানায় ময়না।
সোমবার সিলেট মহানগর মহানগর হাকিম তৃতীয় আমলি আদালতে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দেয় ময়না। আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার আরও বলেন, রাজনসহ শিশুরা ভ্যানগাড়িটি চালানোর চেষ্টা করছিলো। তবে চুরির উদ্দেশ্যে নয়। ময়নার বক্তব্যেই বোঝা গেছে তারা খেলা করার জন্য গাড়িটি চালাচ্ছিল।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় ময়না গ্রেফতার আসামিসহ জড়িত আরও কয়েকজনের নাম বলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
গত ১৪ জুলাই রাতে রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ময়না চৌকিদারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়। ১৫ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ার আগেই ময়না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শিশু রাজন হত্যাকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত এক নারীসহ ১০জন গ্রেফতার রয়েছেন। এছাড়া হত্যাকান্ডের মূল হোতা কামরুল সৌদি আরবে আটক রয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৮ জুলাই সকালে চোর সন্দেহে পৈশাচিক নির্যাতন করে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যা করা হয়। নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী ভাইয়ারপাড় গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।
শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়।
আপনার মন্তব্য