২২ জুলাই, ২০১৫ ১৮:১২
রাজনের বাবা-মায়ের কাছে আমরা তার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না। তবে আমরা এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই, যাতে রাজনের ভাগ্য আর কোনো শিশুকে বরণ করতে না হয়। খুনিদের এমন শাস্তিই হবে।
বুধবার দুপুরে সিলেটের সদর উপজেলার কান্দিগাও ইউনিয়নে রাজনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে এমন আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনের বাবা-মাকে স্বান্তনা দিয়ে বলেন, আমি বাবা। আমারও ছেলে-মেয়ে আছে। আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। সেই কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই আমি এখানে এসেছি। আপনারা, নিশ্চিত থাকুন কেউ রেহাই পাবে না। যারা হত্যাকান্ডে সহযোগীতা করেছে। পরে আসামীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।
বুধবার সিলেট পৌছেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পৈশাচিক নির্যাতনে নিহত শিশু সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে যান। এসময় রাজনের বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল।
এসময় রাজনের বাড়িতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- শিশু রাজনের কোন খুনির রক্ষা হবে না। রাজনের খুনি কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
রাজনের খুনিদের সাথে কোন পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেলে তাদেরকেও কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে তাদের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন পুলিশ সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন- রাজন হত্যা মামলার বিচার বিলম্বিত হবে না। দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হবে। এই হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নিজে খোঁজ খবর রাখছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যাকান্ডের পর কামরুল কিভাবে দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে গেল তাও খতিয়ে দেখা হবে। রাজন হত্যাকান্ড মর্মান্তিক ও পৈশাচিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন- খুনিরা কি এতোই পাষন্ড যে একটি শিশু মৃত্যুর আগে তাদের কাছে পানি চাইল, কিন্তু তারা এক ফোটা পানিও দিল না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজনের পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামা।
এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন- রাজন খুনের ঘটনায় এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার নিজ উদ্যোগে খুনিদের ধরে পুলিশে দিয়েছেন। কিন্তু তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেননি। এতে বোঝা যায় এ এলাকার লোকজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও শান্তিপ্রিয়।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, কৃষকলীগ নেতা অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম প্রমুখ।
ভিডিও :
আপনার মন্তব্য