নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জুলাই, ২০১৫ ২০:০৭

রাজনকে নির্যাতনের দায় স্বীকার করলো আলী

শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার আসামি আলী হায়দার ওরফে আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সিলেট মহানগর হাকিম আদালত-২ এর বিচারক শাহেদুল করিম বৃহস্পতিবার বিকালে আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আলী হায়দার এ মামলার প্রধান আসামি মুহিতের ভাই। মুহিত বুধবার আদালতে জবানবন্দি দেন। এ নিয়ে গ্রেপ্তার ১২ জনের মধ্যে সাতজন জবানবন্দি দিলেন।

আলী হায়দারের জবানবন্দির বরাত দিয়ে মালাটির তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন- শিশু সামিউল আলম রাজনকে খুঁটিতে বাঁধার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না আলী হায়দার। চোর আটকের কথা বলে ছোট ভাই কামরুল তাকে ফোন করে কুমারগাঁওয়ে নেয়। আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় কামরুল ও ময়না চৌকিদারসহ কয়েকজন মিলে রাজনকে বেঁধে পেটাচ্ছে। রাজনকে দেখিয়ে কামরুল বলে এটা চোর। এরপর আলীও মারধরে অংশ নেয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) আব্দুল আহাদ বলেন, বেলা আড়াইটায় শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আলীর জবানবন্দি নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

গত ১৭ জুলাই সকালে শেখপাড়া এলাকা থেকে আলী হায়দার ওরফে আলীকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। ওই দিন বিকালে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা আহাদ বলেন, রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ার আগেই হায়দার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করে কয়েকজন যুবক। পরে ওই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে তারাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম, দুই প্রত্যক্ষদর্শী আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আলী এবং বাদলসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার রাতে তাজুদ্দিন আহমেদ বাদলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর মধ্যে মুহিতের ভাই সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল ইসলাম ঘটনার পর সেদেশে পালিয়ে গেলে প্রবাসীরা তাকে আটক করে সৌদি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দেন ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী আজমত ও ফিরোজ। এরপর ২০ জুলাই ময়না মিয়া চৌকিদার, ২১ জুলাই নূর মিয়া ও দুলাল মিয়া এবং বুধবার মুহিত আলম জবানবন্দি দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত