নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জুলাই, ২০১৫ ২২:৪০

রাজন হত্যা : কামরুলই নাটের গুরু, তবু মামলার এজাহারে নাম নেই

সৌদি আরবে জনতার হাতে আটক কামরুল ইসলাম

কামরুল ইসলামের নির্যাতনেই মারা যায় শিশু সামিউল আলম রাজন, আদালতে দেওয়া এ হত্যা মামলার আসামীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এ তথ্য। অন্যরা কামরুলের কথায় রাজনকে নির্যাতনে অংশ নেয়, এমনকি রাজনের লাশ গুম করার নির্দেশও দিয়েছিলো কামরুল- জবানবন্দিতে আদালতে এমনটিই বলে আসামীরা।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৭ আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। যার মধ্যে কামরুলের দুই ভাই মুহিত আলম এবং আলী হায়দারও রয়েছে। ভাইয়েরাও জবানবন্দিতে রাজন হত্যার জন্য কামরুলের উপর দোষ চাপায়।

আদালতে দেওয়া ৭ আসামীর জবানবন্দিতে রাজনের প্রধান নির্যাতনকারী হিসেবে কামরুলের নাম উঠে আসলেও এ হত্যাকান্ডের পর পুলিশের দায়েরকৃত এজাহারে কামরুলকে অবিযুক্ত করা হয়নি। উপরুন্তু কামরুলকে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে পুলিশ। রাজনদের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশ ৬ লাখ টাকা নিয়ে কামরুলকে সৌদি পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

যদিও সৌদি প্রবাসীরা কামরুলকে জেদ্দা থেকে আটক করে সে দেশের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

৮ জুলাই রাজনের লাশ উদ্ধারের পর জালালবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে ওই থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। এতে রাজন হত্যার জন্য মুহিত ও দারোয়ান ময়নাকে দায়ি করা হয়। এখন পর্যন্ত এই এজাহার ধরেই চলছে মামলার তদন্ত কার্যক্রম।

এসআই আমিনুলের বিরুদ্ধে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তার সাথে দূর্ব্যবহার করে। এমনকি খুনিদের বাঁচাতে ও পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এসআই আমিনুল।

আজিজুর রহমানের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই আমিনুলকে জালালবাদ থানা থেকে প্রত্যাহার কা হয়। ঘটন করা হয় ৩ সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দিতে কামরুলের ভাই আলী হায়দার জানায়, চোর আটকের কথা বলে ছোট ভাই কামরুল তাকে ফোন করে কুমারগাঁওয়ে নেয়। আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় কামরুল ও ময়না চৌকিদারসহ কয়েকজন মিলে রাজনকে বেঁধে পেটাচ্ছে। রাজনকে দেখিয়ে কামরুল বলে এটা চোর। এরপর আলীও মারধরে অংশ নেয়।

এরআগে রাজনের লাশ গুমকালে হাতেনাতে আটক মুহিত আলম বুধবার আদালতে জবানবন্দিতে বলে, মূমূর্ষ অবস্থায় রাজনকে নিয়ে সে হাসপাতালে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে রাজন মারা যায়। এসময় মোবাইল ফোনে কামরুল লাশ গুম করার নির্দেশ দেয়।

২১ জুলাই নুর মিয়া তার জবানবন্দিতে আদালতকে জানায়, সে ঘটনাস্থলে গেলে কামরুল বলে, 'ভাগনা চুর পিটইরাম। তুই ভিডিও করি ইন্টারনেটে ছাড়ি দে।' কামরুলের এই কথার পরই নিজের মোবাইল ফোনে রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে বলে জানায় নুর।

একইভাবে ২০ জুলাই ময়না মিয়া চৌকিদার, ২১ জুলাই দুলাল মিয়া এবং ১৪ জুলাই এ ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী আজমত ও ফিরোজ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে কামরুলকে দায়ী করেন।

সব আসামীদের জবানবন্দিতে কামরুলের নামই নাটের গুরু হিসেবে উঠে আসলেও এ ঘটনায় দায়েরকৃত এজাহারে কামরুলকে আসামী করা হয়নি। বিস্ময়করভাবে রাজনের বাবা থানায় এজাহার দাখিল করার পরও জালালাবাদ থানার বিতর্কিত সেই এসআই আমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে করা মামলার ভিত্তিতেই চলছে তদন্ত কার্যক্রম।

এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান বলেন, এখনও আমার এজাহার রেকর্ড না করে পুলিশের করা মামলা দিয়েই তদন্ত চলছে। এতে তিনি ন্যায় বিচার বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, তাদন্তে যাদের সম্পৃক্তা পাওয়া যাবে তাদের সবাইকেই আসামী করা হবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, রাজন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আলোচিত এ ঘটনায় মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম ও দুই প্রত্যক্ষদর্শীসহ এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত