নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ জুলাই, ২০১৫ ১৮:৫৩

এসআই আমিনুল ও জাকির বরখাস্ত, ওসি আলমগীর প্রত্যাহার

শাস্তিপ্রাপ্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আমিনুল, এএসআই আমিনুল ও এসআই জাকির

শিশু সামউল আলম রাজন হত্যা মামলায় গাফিলতি ও আসামীদের বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার এবং উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও জাকিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজন হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ কমিশনার রহমতউল্লাহ এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গাফিলাতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করতে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে সুপারিশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও তদন্ত কমিটির প্রধান রোকন উদ্দিন।

আজ দুপুরে সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাত ঘন্টার মধ্যে সন্ধ্যা ৭ টায় সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে শাস্তির ঘোষণা আসলো।

রাজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের বাঁচাতে ও কামরুলকে পালিয়ে যেতে সহেযাগীতার অভিযোগ ওঠে জালালাবাদ থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

পরে রাজনের বাবার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. কামরুল আহসানের নির্দেশে ১৪ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম রুকন উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে অন্য দুই সদস্য হলেন উপকমিশনার মুশফেকুর রহমান ও উপকমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা।

এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত