সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ জুন, ২০১৬ ২২:৫৬

রাখে আল্লাহ মারে কে!

নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে এক তরুণী ভেসে যাচ্ছে এমন দৃশ্য দেখে লাশ ভেবে অনেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করেন এলাকাবাসী ও পুলিশ। কিন্তু, উদ্ধারের পর দেখা যায় তরুণী বেঁচে আছেন, হাত নাড়ছেন, তবে তার গলায় মারাত্মক ক্ষত। কেউ তাকে গলা কেটে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দিয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার পাওয়া ওই তরুণী জানাতে পেরেছেন তার নাম রেবা (২২)।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ বাঁশগাড়ি লঞ্চঘাটের কাছে বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু রেবাকে প্রথমে মাদারীপুর হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ওই তরুণীকে ভেসে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে লাশ ভেবে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদকে খবর দেন এলাকাবাসী। পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয়রা উদ্ধারের পরে দেখতে পান ২২ থেকে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর গলার প্রায় অর্ধাংশ কাটা এবং সে হাত-পা নাড়ার চেষ্টা করছে। দ্রুত তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কালকিনির বাঁশগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদ বলেন, লাশ ভেবে ওই তরুণীকে নদীর পাড়ে ওঠানোর পর সে কথা বলার চেষ্টা করলেও গলা দিয়ে কোনও শব্দ বের হচ্ছিল না। তবে তার নাম রেবা এবং বাড়ি কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের উড়ারচর-স্নানঘাটা বলে জানা গেছে। আমরা দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ওই তরুণীর কোনও অভিভাবকের সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকেই যাবতীয় চিকিৎসার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তার চিকিৎসার জন্য সাত-আট হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

পরে বিকেলের দিকে মাদারীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রেবা বিবাহিত এবং পারিবারিক কলহের কারণেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইতোমধ্যে তার শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

আপনার মন্তব্য

আলোচিত