২৩ মে, ২০২৫ ১৪:০১
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের আলোচনা সময়ে তার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করবেন না।
তিনি রাজনীতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নাক গলাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী।
শুক্রবার (২৩ মে) ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ নামে এক আইডিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তৈয়্যব বলেন, ড. ইউনূসের ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রয়োজন নেই, কিন্তু একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তার নেতৃত্ব অপরিহার্য।
সেই সঙ্গে সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে নিয়মিত আলোচনা বসতে, তাদের মতামত নিতে এবং কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ফয়েজ আহমদ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না।”
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এর ক্ষমতা প্রয়োজন নেই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ডেমোক্রেটিক ট্রাঞ্জিশনের জন্য ড ইউনূস স্যার এর দরকার আছে।
বরং ক্যাবিনেটকে আরও গতিশীল হতে হবে। সরকারকে আরও বেশি ফাংশনাল হতে হবে, উপদেষ্টাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে, দৃশ্যমান অগ্রগতি জনতার সামনে উপস্থাপন করতে হবে- এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত থাকতে পারে না। আমাদেরকে দেখাতে হবে যে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে জনতার সম্মতিতে ক্ষমতায় এসে প্রফেসর সাফল্য দেখিয়েছেন।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সম্মান আছে, এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
আমি মনে করি, সরকারকে এখন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আরও নিবিড়ভাবে আলোচনায় বসতে হবে, নিয়মিত বসে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত চাইতে হবে। কোন ধরনের বিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না। আজকের দুনিয়ায় কোন সভ্য দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করেনা। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বক্তব্যে সেনাপ্রধান জুরিশডিকশনাল কারেক্টনেস রক্ষা করতে পারেননি। তবে সেনাবাহিনীকে প্রাপ্য সম্মান দেখাতে হবে, আস্থায় রাখতে হবে। সেনাবাহিনী প্রশ্নে হুট করে কিছু করা যাবে না, হঠকারী কিছু করা যাবে না। তেমনি, ইনক্লুসিভনেসের নাম করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনও চাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব এবং আস্থার জায়গা- সেটা কেউ ভঙ্গ করবে না।
দরকারি প্রস্তুতি শেষ করে নির্বাচন এপ্রিল-মে'র কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেই আশা করি, তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। এসময়ে সকল যৌক্তিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, করতে হবে জুলাই সনদ। তবে ডিসেম্বর থেকে জুনে দেয়া রোডম্যাপ মতে নির্বাচনের এক্স্যাক্ট ডেট ঘোষণার এখতিয়ার শুধুমাত্র স্যারের। স্যারের এখতিয়ার অন্য কেউ হাইজ্যাক করতে পারবে না। স্যারকে যখন আনা হয়েছে, তখন বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে স্যার বলেছেন, আমার কথা শুনতে হবে।
জুলাই-আগস্ট'২৫ এ আমরা জাতীয়ভাবে দুই মাস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির উদযাপন করব, ইনশাল্লাহ। এবং আগস্টের মধ্যেই স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার বিচারের প্রথম রায়টি আলোর মুখ দেখতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করি।
ইনশাআল্লাহ আমরা হারবো না, আমাদের হারানো যাবে না।
পোস্টের শেষে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, ইনকিলাব জিন্দাবাদ। প্রফেসর ইউনূস জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
আপনার মন্তব্য