রোববার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ইং

আজিজুস সামাদ আজাদ ডন

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০

জবানবন্দি

জন্মসূত্রে বাবার দলকে ধারণ করছি। সেই সূত্রে রাজনীতিতে হাতেখড়ি ২০০৪ সালে এবং বাবার মৃত্যুর পর বারবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। প্রথম তিনবার দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হলেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে মনে বড় আশা ছিল দলীয় স্বীকৃতি কিছু একটা পেয়ে যাবো। পাইনা তো পাইলামই না। মনে কিছু দুঃখ বোধ যে কাজ করেনি তা নয়। এর মাঝে অবশ্য একটা ছোট্ট আশ্বাস বাণী পেয়েছিলাম যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবো। ২০১৩ সালের শেষের দিকে সংসদীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হল, তালিকায় আমার নাম নেই। কী আর করা! প্রতিবারের মত মনোনয়ন দাখিল করে রাখলাম এই আশায়, যদি কোন কারণে দলের মত বদলায় অথবা যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তারটা বাতিল হয়।

হঠাৎ মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেরদিন সন্ধ্যায় আমাদের সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি ফোন দিয়ে জানালেন, আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য। বলে কি!! ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে দলের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত, সেখানে কিনা আমাকে স্বতন্ত্র করতে বলা হয়েছে!! সাথে সাথে বড়ভাই তুল্য জনাব ওবায়দুল কাদেরকে এবং আমার আরেক মুরুব্বী বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে ফোন দিয়ে জানালাম বিষয়টা। দু’জনেই জিজ্ঞেস করলেন কে বলেছে। আমি তার নাম বলতেই ওনাদের দুজনই প্রায় একই রকম উত্তর দিলেন, সে যদি বলে থাকে তাহলে তো দায়িত্ব নিয়েই বলেছে। আমি বললাম, আমি ওনার কথায় এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। আগামীকাল বিকেলের মধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশটা আপনাদের মুখ থেকে জেনে নেবো।

পরেরদিন বিকেলে প্রথমেই কাকা বাবুকে ফোন দিলাম, ফোন ধরলেননা, একটু ঘাবড়েই গেলাম। দিলাম কাদের ভাইকে ফোন, উনি ফোন ধরেই বললেন, তোমাকে স্বতন্ত্র করতে বলা হয়েছে কিন্তু জিতে আসতে হবে। আমি দেখবো যাতে ইলেকশন ফ্রি এন্ড ফেয়ার থাকে। কী আর করা। ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মত নেমে পড়লাম নির্বাচনে। দল নেই, কর্মী নেই, টাকা নেই, সময় নেই। মাত্র বিশ দিনে সব গোছাতে হবে। আমার আসনের সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় গুছিয়েও ফেললাম। এর মাঝে নির্বাচন শুরু হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই উৎসাহিত হওয়ার মত একটা ঘটনা ঘটলো। কেন্দ্র থেকে চিঠি এলো কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহসম্পাদক করা হয়েছে আমাকে। ব্যাস, ঐ উৎসাহেই হুড়মুড় করে কেটে গেলো আরেক সপ্তাহ।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসতে লাগলো ততই বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া শুরু করলাম। নির্বাচনের দুইদিন আগে সব ষড়যন্ত্রের কথা জানালাম আমার রাজনৈতিক বড় ভাইকে। উনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন। বিশ্বাস করতেই হয়, হাজার হলেও বড় ভাই। কিসের আশ্বাস আর কিসের বিশ্বাস, প্রশাসন লেলিয়ে দিয়ে আমার কর্মীদের দাঁড়াতেই দেওয়া হল না। অবশ্য জনতার প্রতিরোধের মুখে প্রশাসন কিছু করতে না পারায় ভোটকেন্দ্রের হিসেবে জিতলাম বারো হাজার ভোটে কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল আটকে গেল, মাঝরাতে ঘোষণা দেয়া হল আমি চার হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত।

ঢাকায় এসে প্রথমেই গেলাম কাকাবাবুর কাছে। উনি আমাকে দেখেই বললেন, আমি তোমার ফোন ধরিনি ইচ্ছে করেই, তোমাকে নির্বাচনের অনুমতি দেওয়াটা আমার পছন্দ হয়নি, কিন্তু আমার পছন্দ-অপছন্দের তোয়াক্কা তুমি করবানা জানি, এখন যেহেতু কেন্দ্রীয় একটা পদ পেয়েছো, আশা নিয়ে বসে থাকো। কিসের আশা!! ১৬ সালের শেষে দল থেকেও বাদ, তবে ১৮ সালের নির্বাচনী মনোনয়ন থেকে বাদ পড়লেও একটা সুখের ঘটনা ঘটলো। এই প্রথমবারের মত দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক দু’জন আমাকে ডেকে নিয়ে জানালেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে তুমি থাকবে। জন্মসূত্রে আদর্শের রাজনীতি ধারণ করছি, পদ-পদবির মোহ না থাকলেও জনকল্যাণকর কাজে নিজ সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবার জন্য পদ-পদবির প্রয়োজন আছে। নিজ স্বার্থচিন্তা থেকে এই প্রচেষ্টা যে নয় তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, বাবার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনের সহজ বিজয় ভাবনাকে উপেক্ষা করেছি দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক দলীয় নির্দেশের প্রতি আনুগত্যের কারণেই।

আমরা সেই দেশে বসবাস করি যেই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আসনে আসীন হতে পারেন দেশের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী মানুষ। তাদের বিষধর দংশনে নীল হয়েছে দেশের ইতিহাস। দেশের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক মানুষদের দ্বারাও। সেরকমই একজন মানুষ, সেদিন একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের বন্দনা করতে যেয়ে অতি বন্দনা রোগে আক্রান্ত হয়ে যা ইচ্ছে বলেছেন। কোথায় পেলেন এসব তথ্য জানিনা, যদিও যাকে নিয়ে বলেছেন সেই মুক্তিযুদ্ধের ডিফ্যাক্টো ডিপ্লোম্যাট সাহেব পরবর্তীতে ইতিহাস বিকৃতকারী স্বৈরাচারদের সমর্থনে কাজ করেছেন, তাদের দেয়া পদ-পদবি নিয়ে ইতিহাস বিকৃতিতে সহায়তা করেছেন সেটা যেন ইচ্ছে করেই তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে ওনার মত ডিফ্যাক্টো ডিপ্লোম্যাট আরও অনেকে ছিলেন, সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন যিনি সেই কলকাতার ডিফ্যাক্টো ডিপ্লম্যাট হোসেন আলী সাহেব, তিনি তো ইতিহাসের পাতাতেই আর নেই।

আমরা সেই দেশে বসবাস করি যেই দেশের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কারণে বিদেশি স্বৈরাচারের রোষানলে পুড়ে হারাতে হয় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ডিগ্রি অথচ জয়ী হওয়ার পরেও ঐ অপরাধ থেকে তাদের মুক্ত করার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়না, তাদের ডিগ্রি ফিরিয়ে দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। এই সেই দেশ যেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা বারবার মন্ত্রিত্ব পায়, সংসদ সদস্য হয়। এই সেই দেশ যে দেশে কোন দলের মনোনয়ন পেতে হলে সেই দলের কোন পর্যায়ে সদস্যপদ না থাকলেও চলে। এই সেই দেশ যে দেশে স্বৈরাচারের সহায়ক শক্তিরা বারবার নির্বাচিত হয়। এই সেই দেশ যেখানে দেশের ইতিহাসের নায়কদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেও ক্ষমতায় থাকা যায়।

আমার জেলার কথাই বলি। এই জেলাতেই দু’জন এমপি এই জেলারই অধিবাসী নন। এই জেলার আরেক এমপি তো ২০০৮ সালের একদম শেষে এসেও আওয়ামী লীগের গ্রাম পর্যায়েরও আওয়ামী লীগার না থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছিলেন। আরেকজনের তো চৌদ্দগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শুধু না মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডেও জড়িত। এমনকি উনি নিজেও পাকিস্তানিদের সাথে কাজ করার জন্য বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চাকরিচ্যুত। আরেকজন বসে বসে বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন। ৯০’এর স্বৈরাচার বিরোধী তুমুল আন্দোলনের সময় সকল বিরোধীদল যখন উপজেলা নির্বাচন বয়কট করলো তখন স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই চেয়ারম্যানগিরি ছুটে যায় স্বৈরাচারের পতনের পরপরই। তার এতোই জনপ্রিয়তা যে, ১৯৯১ এবং ২০০১’এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা নিয়েও তিনি পরাজিত। উনি বহুবার বহু কিছুই নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু সবই আঁতাত অথবা বাণের জলের মত জনসমর্থন যখন থাকে সেই সময়ে তোলা ফসল। অন্যের চাচা রাজাকার ছিলেন কিনা সেই তত্ত্ব তৈরিতে ব্যস্ত মানুষটির নিজের বাপ-চাচারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কী করেছেন সেই তথ্যটা বলতে চান না। ভুলেই যেতে চান যে, যাকে বা যাদেরকে তিনি আক্রমণ করছেন, সে বা তারা এবং এই মহোদয় নিজেও এক সময় একই দল করতেন এবং এটা সেই দল যারা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগেও তাঁর চামড়া দিয়ে জুতা বানাতে চেয়েছিল। এই দল আশির দশকেও আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন একবার গালি না দিলে রাত্রে ঘুমাতে পারতেন না।

জেলা আওয়ামী লীগে গত কিছুদিন যাবত ঘটে চলা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রথমদিকে খুব আশান্বিত ছিলাম আমার জেলা আওয়ামী লীগকে বর্তমান সভাপতি সাহেব ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে পারছেন ভেবে। সকলের ঈমানী ঐক্যের ঘোষণায় মনে হল, জেলা আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ প্রায় এক যুগের বন্ধ্যত্ব ঘুচবে। তার পরপরই বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় চার নেতার সামনে জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা, পনেরো বছর আগে যিনি মারা গিয়েছেন, দেশ ও জাতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গকারী সামাদ আজাদ সম্পর্কে খুবই অশ্রদ্ধার সাথে কিছু কথা বললেন। তার কিছুদিন পরেই জেলা আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত পাঁচ জনপ্রতিনিধি এক সভায় নিজেদের মাঝে সুদৃঢ় ঐক্যের কথা ব্যক্ত করে জেলা আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে “তাদের” ও “তারা” সম্বোধন করে নিজেদের বিভক্তি সুনিশ্চিত করলেন। জেলা যুবলীগের এক নেতা আবার ঐ মরহুম সামাদ আজাদকেই টেনে এনে ভুল তথ্যে ভরপুর বক্তব্য দিলেন।

এর পরেই আবার নতুন সমস্যা যুক্ত হল, নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ছাতক- দোয়ারা বাজারের জনপ্রতিনিধি বললেন, উনি বোমা মামলা খাওয়ার পর নাকি জননেত্রী শেখ হাসিনা সামাদ আজাদকে আনন্দ উৎসবের পরামর্শ দিয়ে ঢোল ঢক্কর বাজিয়ে দেশের জোকার হবার উপদেশ দিয়েছিলেন। অপর মন্তব্যটি করেছেন বঙ্গবন্ধুর সহচর, ৭৫’ পরবর্তী আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে যার ভূমিকা অনস্বীকার্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আব্দুস সামাদ আজাদকে নিয়ে।

আরে ভাই, আব্দুস সামাদ আজাদেরা গণমানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন, আপনার মত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না যে, আপনার মত সন্ত্রাসে বিশ্বাসী রাজনীতিবিদদের শুদ্ধ পথে আনবার জন্য তাঁরা আইনের ভাষায় কথা না বলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উস্কে দেবেন। সামাদ আজাদের যেদিন ছাতক আসার কথা ছিল ১৯৯৯ সালে, ঠিক তার দুইদিন আগে ক্ষমতাসীন এমপি সাহেবের কী এমন প্রয়োজন দেখা দিল এতোটাই শক্তিশালী বোমা বানানোর যে, তার নিজের বাসার ছাদ শুদ্ধ উড়ে গেল। আপনি কি এমন ক্ষমতাশালী সম্রাট হয়ে গেছেন যে আপনার কৃত অপরাধের জন্য মামলা পর্যন্ত করা যাবেনা।

তারপরও সিলেটবাসী সাক্ষী আছেন, ভরা জনসভায় আব্দুস সামাদ আজাদের পায়ে ধরে মাফ চাওয়ার কারণে ওনার বদান্যতায় আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে এখন আক্রমণাত্মক কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। ভুল করলে ক্ষমা করার সুযোগ থাকে কিন্তু পাপের ক্ষমা তো মানুষের কাছে নেই। আজ মনে হচ্ছে নিজেদের পাপীর তালিকায় নাম লেখানোর মহোৎসবে নেমেছেন কিছু মানুষ। দুঃখ একটাই, সিলেট আওয়ামী লীগ এই ঘটনার সাক্ষী, সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ তখন এই নির্বাচিত প্রতিনিধি সাহেবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছিল কিন্তু আজ তারা নিশ্চুপ। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার উনি করেছেন সেটার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা না নেওয়াটা খুবই বেদনাদায়ক। সমস্যা হল, এইসব ঘটনাবলী শুরু হওয়ার কিছুদিন আগেই আওয়ামী লীগের সাথে সরাসরি যুক্ত নন এরকম একজন দেশবরেণ্য সাংবাদিক তার কলামে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু কথা বলার পর কোন এক অজ্ঞাত কারণে (যদিও ঐ কলামে কোন নাম উল্লেখ করা ছিল না, শুধুই “সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের এক নেতা” লিখেছিলেন) সেটা জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মহোদয় নিজের কাঁধে টেনে নিয়ে সাংবাদিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে রেজোলিউশন পাস করেছিলেন। অথচ নেতৃবৃন্দের বর্তমানের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের কোন বক্তব্য নেই।

একটা গল্প আছে, এক চোর এসে গাছের বিশাল লাউ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাগানের মালিকের জন্য খানিকটা লাউ রেখে গিয়েছিল, চোরটারও কিছু বিবেক আছে। কিন্তু সামাদ আজাদ এবং তার সহকর্মীরা যে জনগণের অধিকারের জন্য সারাটা জীবন লড়াই করেছেন, সেই জনগণের অধিকার যারা চুরি করে তারা বড়ই বিবেকহীন। একারণেই পৃথিবীর আর কোন ভাষায় "কৃতঘ্ন" শব্দটির অস্তিত্ব না থাকলেও বাংলা ভাষায় আছে। কথায় বলে, "যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ"। তবে সকল রাবণই ভুলে যায় যে, রাবণের সাধের লঙ্কা জ্বালাবার জন্য একটা লম্বা লেজওয়ালা হনুমানই যথেষ্ট।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বহু ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই দল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন একটি দেশ এঁকে দিয়েছে, বাঙালি জাতির জন্ম দেওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই দলের নেতা ছিলেন বলে আমরা গর্বিত। এছাড়াও এই দলে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান, এম মনসুর আলী, আব্দুস সামাদ আজাদের মত আত্মোৎসর্গকারী নেতৃবৃন্দ।

আজকাল অনেকেই আওয়ামী লীগ করেন অথচ এই ধরনের ক্ষণজন্মা আত্মোৎসর্গকারী নেতাদের সম্পর্কে অনেক আজেবাজে কথা বলেন যেটাতে ক্ষণজন্মা মরহুম নেতাদের যেমন কিছু যাবে-আসবেনা, তেমনি দলেরও কিছু যায়-আসেনা অথবা যে বা যারা ঐসব আজেবাজে কথা বলছে তারাও আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না সেটাও নয়। তবে নষ্ট রাজনীতির ভ্রষ্ট পথিকেরা ভুলে যাবেন না, হাওরপারের মানুষ আমরা, হাওরপারে ঘর তুলে থাকি হাওরের বাণের জলের তোড় বুঝেই, ভেসে যাওয়ার নয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।

  • আজিজুস সামাদ আজাদ ডন: রাজনীতিবিদ; জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের পুত্র।
  • [লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]

আপনার মন্তব্য

আলোচিত