বুধবার, , ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ ইং

ড. মো. নায়ীম আলীমুল হায়দার

০৯ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৫:০৩

নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের

বছরের পর বছর আইন পেশা স্বীকৃত হয়ে আসছে সম্মান ও ঐতিহ্যের পেশা হিসেবে। বাংলাদেশে যতগুলো আত্মনির্ভরকেন্দ্রিক পেশা রয়েছে তার মধ্যে আইন পেশা হলো সবার পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা।  বাংলাদেশে আইন পেশার পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত।  আদালতে বিচারক হিসেবে কাজের সুযোগ থেকে শুরু করে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এখন বিশাল দ্বার উন্মুক্ত।

একজন আইনজীবী আইন পেশার পাশাপাশি যে কোনো কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজরর, যে কোনো ব্যাংকের নিজস্ব আইনজীবী অথবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ আছে। এখানে আয় ও সম্মান উভয়টি ভালো মানের।

জানা যায়, বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজরর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন আইনজীবীর কাজের পরিধি সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাড়ছে আয়ের ক্ষেত্র।

সুতরাং অন্যান্য পেশার চেয়ে আইন পেশা অনেক লাভজনক ও সম্মানজনক। এছাড়া আইন বিষয়ে বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতারও সুযোগ রয়েছে। কাজের ক্ষেত্র বিস্তৃত হওয়ায় আইন নিয়ে পড়াশোনার প্রতিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে দিনকে দিন। নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর আইন বিভাগ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি বিভাগ। এখান থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা দেশের আইন পেশায় অত্যন্ত সুনাম এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

আইন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রায় শতভাগ পাস করে আসছেন এবং আইনজীবী হিসেবে দেশের বিভিন্ন  আদালতে পেশাভুক্ত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত আছে। এখানে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (অনার্স) এবং  এক বছর মেয়াদি এলএলএম কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে  পূর্ণকালীন শিক্ষকের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথিতযশা অধ্যাপক, বিচারপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবীদের দ্বারা ইউনিভার্সিটির একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি যা আইন শিক্ষা ও গবেষণার জন্য খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যাপ্ত বই ও জার্নাল। লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীরা নিরিবিলি পরিবেশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারেন। প্রয়োজনে লাইব্রেরি থেকে বই বাসায় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন।  ইউনিভার্সিটি সম্পূর্ণ ওয়াই ফাইয়ের আওতাভুক্ত। পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই হওয়ায় এবং ইন্টারনেট সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা গবেষণা কাজে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকেন।

ল স্টুডেন্টস ফোরাম নামে আইন বিভাগের নিজস্ব একটি ক্লাব রয়েছে। উক্ত ফোরাম এর মাধ্যমে নিয়মিত বিতর্ক, মুট কোর্ট ও নানা ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা  হয়। উক্ত বিভাগে মেধা ও যোগ্যতা সম্পন্ন পূর্ণ কালীন শিক্ষক রয়েছেন যাদের আইনের  উচ্চ ডিগ্রী রয়েছেন। আইন বিভাগের শিক্ষকরা কেউ পিএইচডি নিয়েছেন, কেউ বা নিচ্ছেন, নানা আইনি গবেষণায় যুক্ত, সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাল ফলাফল করা ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

এছাড়া আইন বিভাগের সিলেবাস ইউজিসি ও বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত। উক্ত সিলেবাসটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রণয়ন করা হয়েছে। সিলেটে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উচ্চ শিক্ষার প্রসারে সুনাম কুড়িয়েছে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর আইন বিভাগ। নূন্যতম ব্যয়ে সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়। দ্রুততম সময়েই শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। পড়ালেখার পাশাপাশি গবেষণা, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম আর প্রতিভা অন্বেষণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের মাধ্যমেও নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি গড়ে নিয়েছে স্বতন্ত্র অবস্থান।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। এই অর্ধযুগেই দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সফল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রা শুরুর পরই নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয় নর্থ ইস্ট। গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ চলছে। বর্তমানের নগরীর তেলিহাওরে চলছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বেসরকারি এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিশেষ সুবিধায় উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পায় দরিদ্র, মেধাবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা।

এছাড়াও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে নিজ ক্যাম্পাসেই রয়েছে চাকুরীর সুযোগ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পরিবেশে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদে না জড়াতে পারে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একটি মনিটরিং সেল রয়েছে। আইন বিভাগ শুধুমাত্র আইন শিক্ষাই প্রধান করে না, একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। সময়ের পরিক্রমায় আজ নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগ সবার প্রথম পছন্দ।

  • ড. মো. নায়ীম আলীমুল হায়দার: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

আপনার মন্তব্য

আলোচিত