সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং

প্রত্যুষ তালুকদার

০৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:১৫

মানুষকে পুড়িয়ে মেরে ফেলাও যায়!

নুসরাত। ফেনীর এক মাদ্রাসা ছাত্রী। শরীরে কেরোসিন দিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে তাকে। শরীরের আশিভাগই পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে শ্বাসনালী। শুনেছি এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে- লাইফ সাপোর্টে। সে হয়ত ফিরবে, হয়ত সে ফিরবেনা, এমনই পরিস্থিতি।

আমি কখনো আগুনে পুড়িনি। এর যন্ত্রণা কতটা ভীষণ, তা অনুভব করার মতো শক্তি বা যোগ্যতা আমার নেই। 'জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ' বা 'লাইফ সাপোর্ট' অবস্থাটা আসলে কেবল দুর থেকে দেখেছি, শুনেছি, পড়েছি। এর চৈতন্যবোধ'র অবস্থা সম্পর্কে ততটা ধারণা নেই। এটা চিকিৎসকরা ভালো বলতে পারেন।

শুধু মেয়েটির কথা ভেবে ভেতরে ভেতরে দগ্ধ হই। ঘটনাটি শোনার পর থেকেই শুধুই অন্তর্দাহ। এটা কি কোনোরকম রোমাঞ্চ, নাকি আমার ভণ্ডামি? এসব ভেবে ভয়ানক সংশয়বোধ বাসা বেঁধেছে মনে। তবু চলছি, ফিরছি, আড্ডা, কাজ, দুঃখ, আনন্দ সবই চলছে; এটা আমার-আমাদের জীবনযাপন।

শুনেছি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে সে অভিযোগ করেছিলো। বিচার চেয়েছিলো। যেখানে মেয়েরা ভোগ্য, কখনোবা বস্তু। নিতান্তই প্রেমের কিংবা আনন্দের নয়। কেবলই, জবরদস্তি, নির্যাতন আর নিপীড়নের।

এতো গেলো, ঘটনার প্রেক্ষাপট। কিন্তু মানুষ মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারছে, মারতে চাইছে- এই সাইকোলজিটা মাথায় রাখুন। খুব শান্ত ভাবনায়।

একটা যৌন নিপীড়ন, প্রতারণা কিংবা জবরদস্তির ভোগচেষ্টা, দমন-অবদমন থেকে মানসিক বিকৃতি। অবশেষে পুড়িয়ে মারার প্রয়াস।

যৌন নিপীড়ন হলো, পুড়িয়ে মেরে ফেলা হলো, অপরাধ হলো, এসব অপরাধের জন্য আইন আছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশনায় জড়িতরা ধরা পড়বে। দ্রুত বিচারে শাস্তিও হবে। আমি আশাবাদী, খুব দ্রুত বিচার শেষ হবে। কিন্তু, এই মনস্তাত্ত্বিক সমাজে অপরাধতত্ত্বে আরেকটি 'অনুষঙ্গ' যোগ হলো।

একটা মানুষকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হলো, বিকৃত যৌনক্ষুধা মেটাতে না পারার অপরাধে।

ভাবছি, কিছু মানুষই কিভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মেরে ফেললো!
ভাবছি, পুড়িয়ে মেরে ফেলার 'ইনটেনশন' নিয়ে।
ভাবছি, সমাজের একটা বড়ো অংশের 'মনস্তাত্ত্বিক বোধে'র এমন বহিঃপ্রকাশ নিয়ে।

এটা অবশ্যই বিচ্ছিন্ন কিছু বিষয় নয়। বছরের পর বছর ধরে আমাদের মানসিকতা যে পারিপার্শ্বিকতায় বেড়ে উঠছে, যে দর্শন, যেমন নির্দেশনা নিয়ে ভাবনাগুলো ডানা মেলছে, যেমন কালচার আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে, অন্ধকার কারাগারে রেখেছে, সেই বিকৃতি নিয়ে বেড়ে ওঠার প্রতিফলন এমন ঘটনা।

আইন, লাঠি, বন্দুক, শাসন দিয়ে শরীর নিয়ন্ত্রণ করা যায়, মানসিকতা নয়।

এখন ভাবনা আর দর্শনের জগত নিয়ে ভাববার সময় এসেছে!

  • প্রত্যুষ তালুকদার: সাংবাদিক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত