রবিবার, , ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ মে, ২০১৮ ০০:১৯

‘আমি রাজাকার’ লিখেছে যারা তারা ‘কুলাঙ্গার’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় যারা ‘আমি রাজাকার’ লিখে আন্দোলনে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যায়িত করেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।

শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, “কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ছোট ছোট ছেলেদের বুকে ‘আমি রাজাকার’ লেখা দেখে জীবনে প্রথম মনে হয়েছে ’৪৭ বছর আগে বাবা মরে গিয়ে বেঁচেছেন।”

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কোটার জন্য নিজেদের রাজাকার বলতে তোমাদের বাধল না? ভবিষ্যতে যদি কখনও মুক্তিযুদ্ধ হয় তাহলে তোমরাই প্রথমে রাজাকার হবে। যারা ‘আমি রাজাকার’ লিখেছে তারা কুলাঙ্গার।’

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা সহ পাঁচ দাবির আন্দোলনের সময়ে গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সড়ক অবরোধ হয়। ওই সময় জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা সুযোগ পাবে না, তো কি রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে?”

এরপর কেউ কেউ ‘আমি রাজাকার’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এবং বুকে ‘আমি রাজাকার’ লিখে দাঁড়িয়ে যান কর্মসূচিতে, যা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

নুজহাত চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোনো কোটার প্রয়োজন নেই। আমার বাবার কোনো সার্টিফিকেট ছিল না। কোনো কোটা ছাড়াই ২০তম বিসিএসে আমি দ্বিতীয় হয়েছিলাম। পুরো দেশটাই আমাদের।”

নুজহাত বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা যদি তাদের রক্তে দেশ স্বাধীন না করতেন তাহলে এখন যারা বিসিএস ক্যাডার হচ্ছেন, বড় চাকরি করছেন তাদের পশ্চিম পাকিস্তানের কেরানি হয়েই থাকতে হত।”

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগরের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ওয়াসিকা আয়শা খান প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত