বুধবার, , ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ইং

হামিদুর রহমান, মাধবপুর প্রতিনিধি

০৭ মে, ২০১৮ ১৫:৪৮

চা বাগানে শিক্ষকের দৈনিক বেতন ৮৫ টাকা!

চা বাগানে একজন শ্রমিক দৈনিক হাজিরা পান ৮৫ টাকা। তেমনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান পরিচালিত বেসরকারি ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের দৈনিক বেতন মাত্র ৮৫ টাকা।

নিয়মানুযায়ী একজন বাগান কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন কাঠামোতে একজন শিক্ষকের বেতন হবার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সুরমা চা বাগান ১০নং ডিভিশন, মাহজিল এবং ২০ নং ডিভিশনে ৩টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিদিন ৮৫ টাকা হাজিরায় শিক্ষকতা করছেন। এই স্বল্প বেতনে চাকরী করার কারণে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চা শ্রমিক নেতারা বলেন, শিক্ষকরা খুব কষ্ট করে চা শ্রমিক সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছেন। কিন্তু বাগান পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের স্বল্প বেতন, ভবন সংকট, আসবাবপত্র সহ নানা বিধ সমস্যা রয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় এসব বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণও করা যাচ্ছে না।

১০নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিত মুন্ডা বলেন, সুরমা চা বাগানে একজন শিক্ষককে সাধারণ শ্রমিকের ন্যায় দৈনিক মাত্র ৮৫ টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রমচুক্তি অনুযায়ী চা শ্রমিক সন্তানদের লেখাপড়ায় নিয়োজিত বাগান পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের বেতন বাগানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে দেওয়ার কথা। কিন্তু ৩০ বছর ধরে তাদেরকে এসব ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে তারা শ্রীমঙ্গল চা শিল্প শ্রমকল্যাণ বিভাগে যোগাযোগ করে স্টাফ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আমাদের বেতন সহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রদানের দাবিতে আবেদন করেছি।

সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম জানান, আগে যে হারে শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে এখনো সে হারেই দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত হারে বেতন সহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিধান থাকলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সে হারে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হবে।

সুরমা চা বাগানের লস্করপুর ভ্যালীর সভাপতি অবিরত বাকতি জানান, বাগান পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এই স্বল্প মজুরী দেওয়ার কারণে চা শ্রমিক সন্তানরা মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছে না। শিক্ষকদের স্টাফের ন্যায় বেতন দেওয়া হলে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন সহ চা বাগানে প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি আরো বাড়বে।

শ্রীমঙ্গল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. ইউসুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী অবশ্যই বাগান কর্তৃপক্ষ একজন শিক্ষককে স্টাফের বেতন কাঠামো অনুযায়ী যাবতীয় সকল সুবিধা দেওয়ার সুস্পষ্ট বিধিমালা রয়েছে। শ্রমিক হিসেবে গণ্য করে শিক্ষকদের এই স্বল্প বেতন দিয়ে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বাগানকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত