মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

তুষার গায়েন

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৪২

নিরাপদ সড়ক আইন কার্যকর হোক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চিন্তা থেকে সরকার সড়ক আইন প্রণয়ন করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান যানজট, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানাবিধ ভোগান্তির বিরুদ্ধে এই আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ সময়োচিত এবং জনদাবির প্রতিফলন।

গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সংগঠিত ছাত্র-কিশোর বিদ্রোহ বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক ঘটনা যা সড়ক আইন প্রণয়নে সরকারের উপর বাড়তি চাপ ও দায়িত্ব আরোপ করে, একথা বলাই যায়। আইন অমান্য করা অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি, ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রীবহন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিরীহ মানুষকে চাপা দেয়া এটা যেন বাংলাদেশের মানুষের ভবিতব্য হয়ে উঠেছে।

এতকাল পর যখন সরকার কড়াকড়িভাবে সড়ক আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে, তখন শ্রমিকনেতার বেশধারী দুর্বৃত্ত মাফিয়া এবং অবৈধ সিন্ডিকেট একজোট হয়েছে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারকে তার প্রতিশ্রুত কাজে বাধাদান করতে যার দুর্ভোগ পোহাবে নিরীহ ও অসহায় জনগণ। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস এবং ট্রাক ধর্মঘট ডেকে, চালকদের উস্কে পথে নামিয়ে দিয়ে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে অবৈধ অর্থলোভী, রক্তখেকো সিন্ডিকেট।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বহু বছর ধরে আন্দোলন করে যাওয়া দেশের জননন্দিত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা, তাঁর ছবিতে অগ্নিসংযোগ করার মতো স্পর্ধা দেখিয়েছে এই দুর্বৃত্তরা। সড়ক আইনে যদি এমন কিছু থাকে যা শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী, সেটা সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সারতে হবে। কিন্তু যানবাহন বন্ধ করে, সরকার এবং জনগণকে বেকায়দায় ফেলে জিম্মি করে মানুষ মারার লাইসেন্স হাতে তুলে নেয়ার দানবীয় দাবি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকারকে এব্যাপারে নির্দ্বিধায়, সাহসের সাথে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

সরকারের উচিত হবে সড়ক আইনের সমস্ত বিষয়গুলো পরিবহন মালিক, চালক এবং জনগণের সামনে প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরা যাতে সবাই এর প্রয়োজনীয়তা এবং কার্যকারিতা বুঝতে পারে। এক্ষেত্রে মিডিয়া দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এই আইন যে নিরাপদ সড়কের কথা ভেবে তৈরি হয়েছে এবং এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে পুলিশ চালকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের ধান্দা করবে না, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি রাখারও প্রয়োজন আছে। দেশের মানুষকে বোঝাতে হবে এটা সবার নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি, কাউকে হেনস্তা করা বা শাস্তি দেয়ার জন্য নয়।

মানুষের ভেতর সচেতনতা তৈরি হলে কোনো সিন্ডিকেট বা মাফিয়া গোষ্ঠি এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির সাহস দেখাবে না, মানুষের জীবন নিয়ে হোলিখেলা করার দু:সাহস করবে না।

সড়ক আইন কার্যকর হোক, দেশের মানুষ নির্ভয়ে পথ চলুক!

  • তুষার গায়েন: কবি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত