হাফিজুর রহমান মিতু

০১ জুন, ২০২০ ১৮:০৪

লকডাউন তুলে দেওয়া যৌক্তিক, এবার ফল ও শাকসবজি ক্রেতাবান্ধব করুন

করোনা ভাইরাস কখনোই নির্মূল হবে না, এমন ধারণা দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি বিষয়ের পরিচালক ডা. মাইক রায়ান। তিনি বলেছেন যে, প্রতিষেধক যদি পাওয়াও যায় তবুও এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। জেনেভার ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ডা. রায়ান বলেন, এই ভাইরাসটি আমাদের জাতিগত রোগ হিসেবে আমাদের সাথেই থাকতে পারে এবং হয়তো কখনোই শতভাগ নির্মূল হবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন এমন মন্তব্য করেন, তখন করোনা ভাইরাস থেকে জনসাধারণকে নিরাপদে রাখতে বাংলাদেশের মত একটি দেশে অকার্যকর লকডাউন দিয়ে অর্থনীতিকে পঙ্গু করা অর্থহীন। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও গণপরিবহন খুলে দেওয়াকে অভিনন্দন জানাই।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে আমরা সুইডেনের ফর্মুলাকে ফলো করতে পারি। প্রথমদিকে সবাই তাদের ওই পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও আজ অনেকই প্রশংসা করছে। যেহেতু করোনা ভাইরাস সহসাই নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই লকডাউন করে একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বরং শরীরে এন্টিবডি তৈরি করে একে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাছাড়া ইতিমধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাবধান করেছে বিশ্ববাসীকে।

বাংলাদেশের মত এমন একটি জনবহুল দেশে লকডাউন কখনোই কার্যকর হবে না। যে দেশে জনগণ প্রচলিত আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত নয়, সেদেশে আইন প্রয়োগ করে লোকজনকে ঘরের মধ্যে বন্দি করা কি সম্ভব? আর পুলিশই বা কতদিন করবে এ কাজ। এ ক্ষেত্রে আমরা সুইডেনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারি। তারা হার্ড ইমিউনিটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। যদিও প্রথম দিকে সবাই এর সমালোচনা করেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটা পরিস্কার হচ্ছে যে, তারাই সঠিক পথে আছে। এখন ইউরোপের অন্যান্য দেশও সুইডেনের পদ্ধতি প্রয়োগ করার দিকে ঝুঁকছে। উল্লেখ যে, হার্ড ইমিউনিটি হল এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বেশিরভাগ জনগণকে ভাইরাসটি দ্বারা সংক্রমিত হতে দেওয়া হয় (ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ছাড়া)। একটা পর্যায়ে অধিকাংশ মানুষের দেহে ভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

আমার ধারনা খাদ্যাভাসে একটু পরিবর্তন আনলে বাংলাদেশে এ পদ্ধতিটা বেশ কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে আমরা জানি যে, শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকলে কোন ভাইরাসই আক্রমণ করতে পারে না। আর বিশেষজ্ঞদের মতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারগুলো বেশি করে খেতে হয়। শাকসবজি, আমলকি, লেবু, কমলা, মাল্টা, আদা, রসুন, পেঁপে, দুধ, ডিম ছাড়াও যে সব খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই খাবারগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যেতে পারে। সে জন্য সরকার মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ভোক্তার কাছে এ খাবারগুলো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে দামটা একেবারেই নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব। অথবা সরকার যে সব খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেগুলোতে ভর্তুকি দিতে পারে।

দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ বছর বন্ধ রেখে জুলাই মাস থেকে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এয়ারলাইন্স, গণপরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত সব খুলে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখে খাদ্যপণ্যে ভর্তুকি দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসে আর ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি পদ্ধতি অবলম্বন করে আমরাও পারি হালের করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯-কে খুব সহজেই মোকাবেলা করতে।

যেহেতু আগামী কয়েক বছরে এর কোন প্রতিষেধক বের হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না এবং সুইডেনের মত উন্নত দেশে হার্ড ইমিউনিটি পদ্ধতি অবলম্বন করে সফলতা পাচ্ছে, তাই বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এর বিকল্প নাই। যদিও আমার মনে হয় সরকার ধীরে ধীরে সেই পথেই হাঁটছে; এবং মনে করি, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সঠিক পথেই আছে।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু হয়েছে, কিন্তু ভাড়া ৮০ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতনভোগী একজন লোক তার কর্মস্থলে যেতে যাতায়াত খরচ বাবদ মাসে ৩ হাজার টাকা ব্যয় করে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি প্রস্তাবিত ভাড়া অনুমোদিত হলে তাকে ৫ হাজার টাকার উপরে কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য খরচ করতে হবে। তাহলে বেতনের অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কি তার পরিবারের ব্যয় মেটানো সম্ভব? করোনাকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য নিম্নমুখী হলেও বাংলাদেশের এর কোন প্রভাব পড়েনি। মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত লোকদের দিকে তাকিয়ে সরকারের উচিৎ হবে তেলের দাম কমিয়ে বিআরটিএ প্রস্তাবিত ৮০ ভাগ ভাড়া বুদ্ধি না করে পূর্বে ভাড়াই বহাল রাখা।

সরকারি আমলাদের ছলচাতুরির বেড়াজালে না পড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিজ্ঞ রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দিয়ে জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে ইনশাআল্লাহ আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াবো এই বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবেলা করে।

হাফিজুর রহমান মিতু: অনলাইন এক্টিভিস্ট। ইমেইল: Mitu989@gmail.com

আপনার মন্তব্য

আলোচিত