সিলেটুডে ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১২:৩২

ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সীমিত আকারে সামরিক হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য একটি চুক্তিতে সম্মত হতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে এমনটা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সন্দেহ—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে ইরান বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তাঁর দেশ ‘সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া’ প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেনেভায় আলোচনা চলার সময়ও ইরানের আশপাশে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে দেখা গেছে। মোতায়েন করা সরঞ্জামের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও আছে। এটি অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আর কিছু ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি রয়েছে।

ইতিমধ্যে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পোস্ট করে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি লিখেছেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র; কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা এটিকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’

এর আগে মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প সপ্তাহে কয়েকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। কখনো হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় যুক্ত হন, আবার কখনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে করে ভ্রমণের সময় কথা বলেন।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো যে সব সময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়, তা নয়। অনেক সময় সেগুলো একটি অপরটির সঙ্গে সাংঘর্ষিকও হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত