৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করেছে ৫ লাখ ৯৪,৪১৩ জন পরীক্ষার্থী । এই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তারা আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এমনিটি জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিধিমালা তৈরী হচ্ছে। ফের পরীক্ষার নেওয়ার প্রস্তাবনা আন্ত:শিক্ষাবোর্ড থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে এই পরীক্ষা ফের নেওয়া হবে।
জানা গেছে, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ১ বা ২ বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী শুধু তাদের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে পারবেন।এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যেই শুধু ওই অকৃতকার্য বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪,৮৬৫ জন।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন তারা। এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ সুযোগের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা প্রথমবারের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছি এক বা দুই বিষয়ে যারা অকৃতকার্য হবে তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে মাত্র এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়।
এ দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে। নতুন উদ্যোগের ফলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফল উন্নয়নের সুযোগ পাবেন।
শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণেও একজন শিক্ষার্থীকে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ৯ হাজার ৪৩৯টি।
আপনার মন্তব্য