১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:১৭
বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের দোষারোপ করেছেন। এদিকে, একই ঘটনার জন্যে দুদক দায়ি করছে সরকারি কর্মকর্তাদের।
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদের বৈঠকে এসব মন্তব্য আসে। বৈঠক মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসে সরকারি লোকজন জড়িত আছে। আমরা কিছু শনাক্তও করেছি। আমাদের শক্ত অস্ত্র আছে। সেটা দিয়ে তাদের বের করে ধরপাকড় করা। কিন্তু আমরা তো সেই কাজে আসিনি। আমরা চাই, এ দেশের বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তারা যাতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা সেটা যেন হয়।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সার্কুলার দিয়েই সারাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব, মন্তব্য দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির কার্যক্রমসহ প্রতিটি সাধারণ কাজ অনলাইনভিত্তিক করার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস কীভাবে ঠেকানো যায় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে শিক্ষকরাও জড়িত। তিনি বলেন, ‘বলছি না আমরা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত। ক্লাসে না পড়িয়ে বাধ্য করে বাড়িতে গিয়ে পড়তে। এর ব্যাখার দরকার নাই। যত ভালো শিক্ষক, তত কম পড়ায়।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। তারা এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড, বিজি প্রেস, ট্রেজারি, পরীক্ষা কেন্দ্রসহ আরো কিছু অসাধু চক্র জড়িত।
বৈঠকে প্রশ্নপত্র তৈরি এবং বিতরণ-সংশ্লিষ্ট কাজে মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন লোকদের নিয়োগ দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
আপনার মন্তব্য