৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:০৭
সিলেটে বিমানবাহিনীর নতুন ঘাঁটি স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৭’ উপলক্ষে যশোর বিমানবাহিনীর শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বরিশাল ও সিলেটে নতুন দুটি বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সক্ষমতা বাড়বে।
বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানবাহিনীর নতুন কমিশন লাভকারী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তোমরা বাংলার আকাশ মুক্ত রাখবে। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই নীতিতে আমরা কাজ করছি। মনে রাখবে, ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। নিজেদের কখনই সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাববে না। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সব সময় চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর একাডেমি থেকে তোমরা যে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছো, কর্মজীবনে তার যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকবে। সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাযথ ভুমিকা পালন করতে পারো। প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষার গুরুদায়িত্ব পালনে আজ থেকে তোমরা অংশীদার। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় বঙ্গবন্ধু প্রণীত এই নীতির আলোকে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে-বিদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ অবদান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। দেশপ্রেমের মঞ্চে উজ্জীবিত হয়ে এবং পবিত্র সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তোমরা সংকল্পবদ্ধ থাকবে। ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জনে তোমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’
বিমান বাহিনীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শক্তিশালী এবং প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত দিক বিবেচনায় রেখে তিনি একটি আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে কেউ কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ জঙ্গী বিমান, বড় পরিসরের সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সংযোজন করার কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করি। এই গোলের আলোকে আমরা ইতোমধ্যে বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেছি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার। প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিক থেকে বিমান বাহিনী অচিরেই অত্যাধুনিক, পেশাদার ও চৌকস বিমান বাহিনী হিসেবে দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন।
আপনার মন্তব্য