০৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৪৪
মন্ত্রী হওয়ার পর এক সংবর্ধনায় মোস্তফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশকে এক বছরে বদলিয়ে দিতে পারব, পুরা সরকারের কাছে দেখিয়ে দিতে পারব কীভাবে বদলে দেওয়া যায়।'
টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবার শপথ নেনন তথ্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মোস্তাফা জব্বার। বুধবার তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
বুধবার বিকালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর পক্ষ থেকে নতুন এই মন্ত্রী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তাফা জব্বার।
সংবর্ধনার জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি এক বছরের মন্ত্রিত্বের জন্য ৬৯ বছরের অর্জন নষ্ট করতে পারব না।
অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার তার নতুন দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমার একদিনের (মন্ত্রী) অভিজ্ঞতা, আমি বাইরে থেকে যা জানতাম, আমাদের সরকারের এই আইটি রিলেটেড এরিয়াতে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি সমস্যা হচ্ছে।
“আমি ধারণা করতে পারি নাই টেলিকম ডিভিশনে ক্যান্সারের মতো সমস্যা বিরাজ করে, আর তা সমাধান করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমার নিজেরে কাছে দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা, আমাদের নুরুল কবির (অ্যামটব মহাসচিব) পর্যন্ত তারা প্রত্যেকে এক্সপ্রেশন দিয়েছেন, কানাগলির ভেতরে বসে আছি।”
এক বছরে দুই বিভাগের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবেন কি না- সাংবাদিকদের প্রশ্নে মোস্তাফা জব্বার বলেন, “কানাগলির শেষ দেয়াল যদি ভেঙে দেওয়া যায়, তাহলে কানাগলিটা ছুটে যাবে, দেয়ালটা ভাঙলে পারলে অনেকটা অর্জন হবে। আমরা কোথাও আইসিটি খাতে ব্যর্থ হইনি, একটু সময় লেগেছে, আমার মন্ত্রী হতেও সময় লেগেছে।
“আমাকে মন্ত্রী বানানোর জন্য লবিং ছিল না, স্লোগান ছিল না। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন তার সম্মানটুকু রাখার দায়িত্ব আমার।”
নতুন মন্ত্রী বলেন, “আপনারা আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বুঝতে পারবেন প্র্যাকটিক্যালি আইসিটি ও টেলিকম ডিভিশনের ভেতরে ভেতরে ঘুনে ধরা বিষয় ছিল বলেই হয়ত প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের একটি দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
“সরকারের সবাই আইটি ফ্রেইন্ডলি না, তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোস্তাফা জব্বার ১০ মিনিট কথা বললে আদায় করে নিয়ে আসবেন।”
মোস্তাফা জব্বার বলেন, মন্ত্রী হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আগের মতোই সবার ফোন ধরবেন বা সময় দেবেন তিনি।
ইন্টারনেটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মোস্তফা জব্বার বলেন, “ইন্টারনেট সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নেই, যেভাবে ইন্টারনেট পাওয়ার কথা সেভাবে পাচ্ছে না।
“ইন্টারনেটের গতি থাকতে হবে, সবার সামর্থ্যের মধ্যে থাকতে হবে। এই খাতে যারা যারা আছে তাদের সকলের জট ছাড়িয়ে নিতে পারলে ইন্টারনটে প্রসারে এক বছর সময় লাগবে না।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার বলেন, “আমাদের দেশকে ডিজিটাল রূপান্তর করা আমার অধিকার। আমার মন্ত্রণালয়ে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান একতরফা হয়ে কাজ করবে, তা কোনো মতেই না।
“আমি ইংরেজিবিরোধী না, আমার ইংরেজি চর্চাও দরকার, বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে ইংরেজি জানতে হবে। ৯৬ ভাগ ইংরেজি বোঝে না, তাদের কাছে বাংলা কনটেন্ট ছাড়া উপায় নেই।”
“আমাদের দেশে যদি গ্রামীণফোন ব্যবসা করে, যদি টেলিকম ডিভিশনে চিঠি দেয়, তাহলে কেন বাংলায় চিঠি দেবে না, ” বলেন কম্পিউটারে বাংলা কিবোর্ড বিজয়ের প্রবর্তক মোস্তাফা জব্বার।
শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “যে যে সরকারের এ রূপান্তর চায় না, সেখানে হাতুড়িপেটা করতে হবে।”
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, “বিটিআরসি চেয়ারম্যান ফোন দিয়েছিলেন. তাকে বলেছি প্রথম দিন আমাকে ছাত্র হিসেবে নিবেন, পরে কিন্তু আমি শিক্ষক হব।”
বিটিআরসি ভয়েস কল রেট নির্ধারণ করে দিতে পারলেও ইন্টারনেট মূল্য নির্ধারণ করে দিতে না পারায় সমালোচনা করেন নতুন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মোস্তফা জব্বারকে ফুল এবং ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বেসিস কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, বেসিস সচিবালয় ও বিআইটিএম।
আপনার মন্তব্য