১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:৪৮
রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার জঙ্গি আস্তানা থেকে যে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ.
তিনি জানান, আত্মঘাতী হওয়ার আগে তারা বাসার গ্যাসের চুলার ওপর গ্রেনেড রেখে পুরো ভবন উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। তবে র্যাবের অভিযানের মুখে তাদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে তেজকুনিপাড়ার জঙ্গি আস্তানা ‘রুবী ভিলা’ পরিদর্শনের গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক।
এসময় তিনি আরো জানান, আস্তানায় একাধিক সুইসাইডাল ভেস্ট, মরদেহের পাশে পিস্তল, বিস্ফোরক, অবিস্ফোরিত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ও কিছু বাল্ব পাওয়া গেছে।
বেনজীর আহমেদ বলেন, অভিযানকালে তারা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি-গ্রেনেড ছোড়ে। আমরা দেখেছি, ওই ফ্ল্যাটের চুলার গ্যাস পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে তার ওপর গ্রেনেড রেখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গোটা ভবন ধসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।
র্যাব ডিজি জানান, অভিযানস্থলে এরইমধ্যে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শেষ করেছে। তারা এখন ক্রাইম সিন ইউনিটকে আসার অনুরোধ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এমপি হোস্টেলের পিছনে রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় একটি ছয় তলা বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাত থেকেই পশ্চিম নাখাল পাড়ার ১৩/১ রুবি ভিলা নামের ৬ তলা বাড়িটি ঘিরে ফেলে র্যাব সদস্যরা।
র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ তলা বাড়িটির পঞ্চম তলায় কয়েকজন জঙ্গি সদস্য রয়েছেন বলে তারা জানতে পারেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গেলে বাড়ির ভিতর থেকে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়। র্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসময় দুই র্যাব সদস্যও আহত হন।
তিনি জানান, নিহত জঙ্গিরা সপ্তাহখানেক আগে ৪ জানুয়ারি বাড়িটিতে মেস হিসেবে ভাড়ায় ওঠে। বাড়ির মালিক সাব্বির মেস ভাড়া দেওয়ার জন্য কেয়ারটেকার রাখলেও এই ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে কিছু জানতেন না। কেয়ারটেকার রুবেলের মাধ্যমে এই তিন জন ফ্ল্যাটটিতে ওঠেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক সাব্বিরকে হেফাজতে নিয়েছে র্যাব।
আপনার মন্তব্য