১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৩০
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনে থাকা ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি সরকারপ্রধানের কাছে তোলার আশ্বাস দিলেও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাস্তায় থাকার কথা বলছেন শিক্ষকরা।
সচিবালয় সংলগ্ন পরিবহন পুল ভবনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে রোববার ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী।
জাতীয়করণের দাবিতে গত ১ জানুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। এরপর ৯ তারিখ থেকে তারা আমরণ অনশনে যায়। এ অবস্থায় শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বৈঠকে নাহিদ বলেন, “এই তীব্র শীতের মধ্যে আর কষ্ট করবেন না। আপনাদের দাবি ও সমস্যা যথাযথভাবে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব, আপনারা ঘরে ফিরে যান।”
শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী ও মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমানকে সভার সিদ্ধান্ত অবহিত করে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বলেন, সারা দেশের শিক্ষক প্রতিনিধিরা যেহেতু অনশনে আছেন, তাই সেখান থেকে ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সামনে এই প্রস্তাব তুলে ধরলে ভাল হয়। পরে ২০ জন শিক্ষকনেতাকে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে ডেকে আনা হলে মন্ত্রী আবারও একই অনুরোধ জানান।
তবে বিকাল ৫টার সময়ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মাদরাসা শিক্ষকরা অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের তিন দফা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই শিক্ষক নেতা বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে, উনি (অর্থমন্ত্রী) বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
“আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হতে পারি নাই। আমরা মন্ত্রীকে বলেছি, আপনি অথবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি আমাদের অনশনস্থলে আসুক। তারপর স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে যাক, আমরা চলে যাব। কিন্তু এর আগে আমরা যাব না।”
সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁইয়া, অশোক কুমার বিশ্বাস ও রওনক মাহমুদ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অনশনে আজো অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজন শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য