১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৩৩
শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ৩ দফা দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে গত ১৬ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পক্ষে ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান) ক্যাডারে চতুর্থ স্থান অধিকারী দেব দুলাল গুহ নিপুণ এবং মাহফুজুর রহমান খান (প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা)।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সুখী সমৃদ্ধশালী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় স্বদেশ। এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতেই দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীর স্বীকৃতি অর্জন করে আমরা একঝাঁক তরুণ দেশপ্রেমিক সিভিল সার্ভেন্ট ২ এপ্রিল ২০১৭ সালে গেজেটভুক্তির মাধ্যমে দেশের সেবায় নিয়োজিত হয়েছি। একটি জাতি গঠনের শিক্ষকদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি, কারণ তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর। অথচ, সেই শিক্ষকদের মাঝেই অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, ভর করছে হতাশা। কারণটা মূলত আত্তীকরণ ও পার্শ্বপ্রবেশের নিয়ম।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিসিএস পরীক্ষা বাংলাদেশের বৃহত্তম ও কঠিনতম চাকরির পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় নানা ধাপে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এসে মেধার সাক্ষর রেখে চাকরিতে যোগদান করে যদি কেউ দেখে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েই কেউ ক্যাডার হয়ে তাঁর সমপর্যায়ে বা সিনিয়র হয়ে যাচ্ছে, তবে সেটা তাঁর জন্য হতাশাজনক। ‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার নয়’ আন্দোলনের পর এবং তাতে শারীরিকভাবে ও লেখালেখির মাধ্যমে ৩৫তম ব্যাচের সক্রিয় অংশগ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবির গুরুত্ব ও যথার্থতা উপলব্ধি করে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদেরকে ক্যাডারের বাইরে রেখে তাঁদের জন্য আলাদা নীতিমালা করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে পত্রিকা মারফত জেনেছি। এজন্য আমরা তাঁর প্রতি ও আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
"৩৫তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারেরা আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটের স্মারক নং ৩৭.০০.০০০০.০০৬৭.০৬.০০২.২০১৪ (অংশ)-৯১৩-শিক্ষা থেকে আমরা জানতে পারি, ৬৮ জন প্রদর্শককে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিতাপের বিষয় এই যে শিক্ষা ভবন সূত্রে আমরা অবগত হয়েছি যে, একই বছর নিয়োগ হলে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা সিনিয়রটি পান বিধায় প্রায় ৯ মাস পরে নিয়োগ পেয়েও এরা নাকি আমাদের সিনিয়র হবেন।"
তারা জানান, মাত্র ৫টা দিন পর প্রদর্শকদের গেজেট হলে আমাদের মর্যাদা ও সিনিয়রটি রক্ষা পেতো। দ্বিতীয়ত, প্রদর্শক থেকে পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষক আর সরাসরি বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত স্নাতক-স্নাতকোত্তর করা শিক্ষকের যোগ্যতা কি এক? নাহলে এই সিনিয়রটি কি মেনে নেওয়া যায়? তাঁরা কি স্ব স্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ? ২ শতাংশ হলেও মানা যেতো, কিন্তু ১০ শতাংশ নিয়োগের বিধানটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আত্মঘাতি। এমন সিদ্ধান্তের ফলে আমরা যারা উদ্যমী পরিশ্রমী শিক্ষক মফস্বলের দূর-দূরান্তের কলেজগুলোতে শিক্ষার বাতি জ্বালিয়ে যাচ্ছি, তাঁরা উদ্যম হারিয়ে ফেলছি, ভুগছি হতাশায়। তবে আশার কথা, প্রদর্শকদের পদোন্নতির গেজেটে তাঁদেরকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণের বিষয়টি উল্লেখ নেই। সেক্ষেত্রে তাঁরা যদি ক্যাডার না হন, তবে সিনিয়র হওয়ারও প্রশ্ন আসে না।
(১) শিক্ষা ক্যাডারে নতুন করে সকল ধরণের আত্তীকরণ অনতিবিলম্বে বন্ধ ও বাতিল করা।
(২) সদ্য পদোন্নতি পেয়ে প্রদর্শক থেকে প্রভাষক হওয়া শিক্ষকদেরকে ক্যাডার সার্ভিসের বাইরে রাখা। সেক্ষেত্রে তাঁরা কোনোক্রমেই আমাদের সিনিয়র হবেন না।
(৩) বিসিএস দিয়ে ক্যাডার হয়ে আসা নবীন শিক্ষকদের উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদাপ্রাপ্তি এবং সঠিক সময়ে পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ বিষয়গুলো বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা ক্যাডারে সকল ধরণের পার্শ্বপ্রবেশ বন্ধ করতে উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদানে শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ জানান শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
আপনার মন্তব্য