জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

২৬ আগস্ট, ২০২৩ ২৩:১৩

লালাখাল চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খাসজমি দখল ও নিরীহদের হয়রানির অভিযোগ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া এলাকার জনসাধারণ লালাখাল চা বাগানের বিরুদ্ধে তাদের এলাকার নিরীহ জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও সরকারি খাস জমি অবৈধ ভাবে জবরদখলের অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী লালাখান চা বাগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন সময় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের ও নির্যাতন করে আসছে বলে অভিযোগ করেন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও স্থানীয় এলাকার কৃষকগণের উপর নির্যাতন করার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আহবান করা হয়।

এলাকাবাসীর পক্ষে এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপি সদস্য মো. হাজির আলী।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত কয়েক বছর থেকে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের লিজের বাহিরে আমাদের ভোগদখলীয় এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক জবর দখল করার চেষ্টা করে আসছে। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি এবং বাগানের গাছ কাটার অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ নিরীহ মানুষকে চরম হয়রানি করছে। প্রতিকার চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ভাবে অবগত করা হয়।

বিগত মাঠ জরিপে লালাখাল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কৌশলে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা সরকারি প্রিন্ট ফরচায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক‘র পরিবর্তে লিজগ্রহীতা বাগান মালিক মোহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির লি. নামে বেআইনি ভাবে ১৬ শত একর জমি রেকর্ডভুক্ত করে নেন। সরকারের পক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক এর নামে পুনরায় রেকর্ড সংশোধন করা হয়েছে। এই ঘটনায় লালাখাল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ আমিসহ এলাকার নিরীহ লোকজনের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা হয়রানি ও ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দায়ের করে আমাদের ভোগদখলীয় জায়গা জবর দখল করার চেষ্টা চালায়। তাদের অবৈধ জায়গা দখলের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় গ্রামবাসীর উপর অতীতে একাধিক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে আমিসহ আমার এলাকার লোকজনের উপর কয়েকটি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

বাগান কর্তৃপক্ষ মামলার এজাহারে কৌশল জায়গার দাগ ও তপশীল উল্লেখ করেন নাই। মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৩ জুলাই, মামলা নং-৩ তারিখ, ৫ জুন ২০২৩। অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত না করে মামলা রেকর্ডভুক্ত করায় নিরীহ জনগণ নানা ভাবে হয়রানি শিকার হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের লিজ আবেদনে লালাখাল গ্রান্ট ৫৮৭ একর, ২৭ শতক, উত্তর বাঘছড়া গ্রান্ট ১৫ একর, ৭০ শতক, দক্ষিণ কামরাঙ্গীখেল ১৩৫ একর, ৫৭ শতক , ৫০ নং খতিয়ানে লিজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার ২০২ খতিয়ানে তার নামে রেকর্ড করা হয়েছে, দক্ষিণ বাঘছড়া গ্রান্ট ১৭৮ একর, ৮০ শতক ভূমি। বাগান কর্তৃপক্ষের বিগত ২০১৩ সালে পুনরায় লিজ নবায়ন আবেদনে মোট ১৩ শত ১৭ একর ৩৪ শতক জায়গা উল্লেখ করেন। লিজের বাহিরে লালাখাল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ লালাখাল গ্রান্ট, উত্তর বাগছড়া, দক্ষিণ বাগছড়া মৌজার ৯টি দাগে ১ হাজার ৯৪ একর, ৭৯ শতক জমি জোর পূর্বক লিজ ছাড়া ভোগদখল করে আসছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট লালাখাল চা-বাগানের বিরুদ্ধে সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল সংক্রান্ত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারি খাস জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে নিজেরা শত বৎসরের পুরানো গাছ-পালা কেটে বিক্রয় করে কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেন। বাগানের ম্যানেজারসহ চা-বাগান কর্মকর্তারা গাছ বিক্রয় করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতে এলাকার বাসিন্দাগণের উপর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। লালাখাল চা-বাগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিগত ১৪২০ বাংলা সন থেকে ১৪২৩ বাংলা সন পর্যন্ত লিজকৃত ভূমির উন্নয়ন কর পরিশোধ করেন নাই। সরকারি বকেয়া ৩২ লক্ষ ৬৭ হাজার আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে সম্পূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া এলাকার অন্তত ৪০/৫০টি ভূমিহীন পরিবার বিগত ৩০/৪০ বছর থেকে নয়াখেল মৌজার সরকারি ১নং খাস খতিয়ান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার জঙ্গল পরিস্কার করে আবাদ করেন। এসব জায়গা ভোগদখল করে এখানে কৃষি কাজ ও পাণ-সুপারির বাগান, জাড়া লেবু বাগানসহ শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। অতীতে ২০১৩ সালে প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে ধান ক্ষেত ও লেবু বাগান ধ্বংস করে অন্তত ৫০/৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লালাখাল চা কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের ২ মে লিজ নবায়ন করতে কৌশলে লিজ চুক্তিপত্রে আমাদের ভোগদখলীয় ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ খাসিয়া ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জায়গা তৎকালীন উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাগণের সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন। চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া এলাকাবাসী লালাখাল চা-বাগান মালিক পক্ষের অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। চা-বাগান কর্তৃপক্ষের এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে আমরা প্রশাসনসহ সাংবাদিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করি। তাদের ভোগদখলে থাকা অবৈধ সরকারি জমি উদ্ধার ও যে সব মৌজায় সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা চা-বাগানের নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে তা সংশোধন করে সরকারের নামে পুনরায় রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি ওসমান আলী, কুদরত উল্লাহ, কাশেম আলী, মানিক উদ্দিন, আব্দুস ছাত্তা, আলমাস উদ্দিন, আমির আহমদ, শামীম আহমদ, তমির আহমদ, জমিল আহমদ, শামীমুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম ও রেজওয়ান আহমদ।

এ সম্পর্কে জানতে লালাখাল চা বাগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত